রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ভারতীয় হাইকমিশনারের
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অভিন্ন নদ-নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ন্যায়সঙ্গত ও উভয় দেশের কাছে গ্রহণযোগ্যভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ন্যায়সঙ্গত ও পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা গেলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়বে।
অভিন্ন নদ-নদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত উল্লেখ করে গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। জবাবে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ বিষয়ে তার সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে রাষ্ট্রপতিকে জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়। সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা এবং জনগণের কল্যাণকে সমুন্নত রেখে ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক, ভবিষ্যৎমুখী, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ আগ্রহী।
সাক্ষাৎকালে ভারতের হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে তার দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক মর্যাদা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ়, উন্নত ও শক্তিশালী করতে ভারত আগ্রহী।
রাষ্ট্রপতি তাকে অভিনন্দন জানানোর জন্য হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রপতির প্রতি তার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করেন।
সাক্ষাৎকালে বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের সামর্থ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অভিন্ন শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ ও ভারত আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে।
ভারতের হাইকমিশনার দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি তার সফল কর্মকাল কামনা করেন এবং তার দায়িত্ব পালনের সময় দুই দেশের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ, ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
