সুসংবাদ প্রতিদিন
সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে মরিচ চাষে ঘুরছে অর্থনীতির চাকা
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
এস এম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে এবার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে মরিচ চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। হাইব্রিডসহ বিভিন্ন জাতের মরিচের দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি। এ লাভজনক চাষাবাদে ঝুকে পড়েছে কৃষকেরা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা এ চাষাবাদে স্বচ্ছলতা ফিরছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলসহ জেলায় প্রায় প্রায় ১৬০০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কৃষকেরা বেশি চাষাবাদ করেছে। এসব মরিচের মধ্যে রয়েছে, যমুনা, বিজলী, রশনী, ঝিলিক, বারি-৩, সুপার সনিক, বগুড়া, রংপুরী, হাইব্রিড ও দেশি জাতের মরিচ চাষ করেছেন চাষিরা। কাজিপুরের চরাঞ্চলের নাটোয়ারপাড়া, সোনামুখী, মাইঝবাড়ি, নিশ্চিন্তপুর, ওমরপুর বাজার ও শুভগাছাসহ বিভিন্ন স্থানে এ মরিচের চাষাবাদ বেশি হয়েছে। কৃষকরা জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা এবং শুকনা মরিচ ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে যমুনা নদীর তীরবর্তী শাহজাদপুর, চৌহালী, বেলকুচি, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে এ মরিচের চাষাবাদ হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরাঞ্চলের এসব মরিচ ক্রয় করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। এছাড়া কাজিপুরের চরাঞ্চলের নাটোয়ারপাড়া, সোনামুখী, মাইঝবাড়ি, নিশ্চিন্তপুর, ওমরপুর বাজার ও শুভগাছা হাটে কাঁচা ও শুকনা মরিচের কেনাবেচা জমে উঠেছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলে বারোমাসি হাইব্রিড এ মরিচ চাষাবাদ হয়ে থাকে। প্রায় সাড়া বছরই চরাঞ্চলে এ লাভজনক মরিচ চাষাবাদ হয়ে থাকে এবং উৎপাদিত মরিচ রোদে শুকিনো হচ্ছে। এ শুকনা মরিচও ভালো দামে বিক্রি করে কৃষকেরা। এতে অনেক এলাকার কৃষক ধান চাষের চেয়েও মরিচ চাষেই বেশি চাষাবাদ করছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা এ লাভজনক চাষে ঝুকে পড়েছে এবং অনেকেই এ চাষাবাদ করে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। এছাড়া চরাঞ্চল থেকে কৃষকেরা প্রতিদিন কাচাঁমরিচ সিরাজগঞ্জ শহরে নিয়ে আসে। আড়ৎদাররা এসব মরিচ ক্রয় করে এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা এ মরিচ ক্রয় করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছে। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, চরাঞ্চলের মাটি মরিচ চাষাবাদের জন্য খুবই উপযোগী। এ চাষে কৃষকদের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। এ মরিচ চাষাবাদে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে এবং ভারী বর্ষণে কৃষকের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তারপরেও বাজার ভালো থাকায় কৃষকেরা এ চাষাবাদে খুশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
