সুসংবাদ প্রতিদিন
'তালসারী ডিসি ইকো পার্ক' ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনা
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
শরীফ উদ্দীন, চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগরে অবস্থিত 'তালসারী ডিসি ইকো পার্ক' এখন শুধু বিনোদনের স্থান নয়; শত বছরের ইতিহাস, প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের অনন্য সমন্বয়ে এটি পরিণত হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে। একসময় দীর্ঘদিন অবহেলায় জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে পড়া এই ঐতিহাসিক স্থানটি সরকারি উদ্যোগে নতুন রূপ পেয়েছে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৯৫ সালে নদীয়া এস্টেটের জমিদার শ্রী নফর চন্দ্র পাল চৌধুরী দামুড়হুদার শিবনগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় আম, কাঁঠাল ও লিচু গাছ নিয়ে একটি মনোরম বাগান গড়ে তোলেন। বাগানের সৌন্দর্য বাড়াতে প্রবেশপথের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে শত শত তালগাছ রোপণ করা হয়। তালগাছের সেই দীর্ঘ সারি থেকেই পরবর্তীতে এলাকাটি 'তালসারী' নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৪০ সালে জমিদার নফর চন্দ্র পাল চৌধুরীর মৃত্যুর পর ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় তার দুই ছেলে ভারতে চলে যান। এরপর বাগানটির মালিকানা সরকারের হাতে চলে আসে। সরকারের মালিকানায় আসার পর দীর্ঘদিন যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণের অভাবে বাগানটির আগের সৌন্দর্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। একসময়ের সবুজ-সমৃদ্ধ এলাকা পরিণত হয় বৃক্ষশূন্য ও ঘন জঙ্গলে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে একপর্যায়ে ঐতিহাসিক স্থানটি অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং সর্বহারা পার্টির অভয়ারণ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হতে থাকে। পরবর্তীতে ঐতিহাসিক এই সরকারি সম্পদ রক্ষায় জেলা প্রশাসন উদ্যোগী হয়। পরিত্যক্ত ও জঙ্গলাকীর্ণ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সেখানে গড়ে তোলা হয় নান্দনিক পরিবেশ। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পার্কে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়। শতবর্ষী তালগাছের সারি, সবুজ আমবাগান, লিচু ও কাঁঠালবাগান এবং বিস্তৃত লেকের মনোরম দৃশ্য পার্কটির আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য লেকে নৌভ্রমণ ও সাম্পান চালানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। বর্তমানে পার্কটির নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধন ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজ চলমান রয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় জেলা প্রশাসন 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্কের এক ইঞ্চি জমিও বেদখল হতে দেওয়া হবে না। শীত মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও সারা বছরই প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষ এখানে ছুটে আসেন। প্রবেশপথের দুই পাশে সারি সারি তালগাছের মৃদু শব্দ আর পার্কের সবুজ-স্নিগ্ধ পরিবেশ সহজেই আকৃষ্ট করে দর্শনার্থীদের। স্থানীয় সচেতন মহল ও পর্যটকদের প্রত্যাশা, যথাযথ সংরক্ষণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পিত উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে 'তালসারী ডিসি ইকো পার্ক' ভবিষ্যতে চুয়াডাঙ্গার পর্যটন ও জেলা ব্র্যান্ডিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং জেলার পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
