ইউপি নির্বাচন
দেড় দশক পর বাড়ছে প্রার্থীর জামানত ও ভোটের ব্যয়
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীর জামানত ও ভোটের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন-ইসি। প্রায় দেড় দশক পর প্রার্থীর ভোটের ব্যয় দ্বিগুণ এবং জামানত পাঁচগুণ করা হচ্ছে। এবার ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী হতে চেয়ারম্যান পদে ২৫ হাজার টাকা ও সদস্য পদে ৫ হাজার টাকা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয় ১০ লাখ টাকা ও সদস্য প্রার্থীর ব্যয় ২ লাখ টাকা নির্ধারণ প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন।
জানতে চাইলে গত বুধবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, 'স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় কিছু সংশোধন প্রস্তাব আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।' তিনি বলেন, চেয়ারম্যান পদে জামানতের পরিমাণ বিদ্যমান ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে জামানতের পরিমাণ ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ ভোট না পেলে জামানত বাজেয়াপ্তের বিধান রয়েছে। এটা স্পষ্ট করে এবার ১৫ শতাংশ ভোট না পেলে জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়টি প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রার্থী নির্বাচনি ব্যয় (ব্যক্তিগত ও ভোটের ব্যয়) আলাদা আলাদা থাকলেও এবার একীভূত করে ব্যয় সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে এবার চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যয়সীমা প্রস্তাব করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। বিদ্যমান বিধিমালায় প্রার্থীর ব্যক্তিগত ব্যয় রয়েছে ৫০ হাজার টাকা আর নির্বাচনি ব্যয় রয়েছে ৫ লাখ টাকা। আর সদস্য পদে ব্যক্তিগত খরচ ১০ হাজার টাকা ও ভোটের ব্যয় ১ লাখ টাকা রয়েছে বিদ্যমান বিধিতে। ইসি এবার প্রস্তাব রেখেছে— সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর ব্যয় হবে ২ লাখ টাকা। সবশেষ ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশের আলোকে স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা জারি করা হয়। পরে সংসদে ২০০৯ সালে স্থানীয় সরকার ইউপি নির্বাচন আইন হয়েছে; এর আলোকে ২০১০ সালে স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা হয়। সময়ে সময়ে তা সংশোধন হয়ে আসছে, তবে এবারই প্রার্থীর জামানত ও ভোটের ব্যয় বাড়নো হচ্ছে।
গেল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়; ব্যয়সীমাও ১০ টাকা ভোটারপ্রতি বিবেচনায় ২৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ের সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়। নির্বাচন কমিশনের এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক বলছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম। এ নির্বাচন বিশ্লেষক বলেন, জামানত ও ব্যয়সীমা বাড়ানোর ইতিবাচক দিক রয়েছে। এখন টাকার মূল্যমান কমে গেছে তুলনামূলকভাবে। সে হিসাবে অর্থের পরিমাণ বাড়ানোটা যৌক্তিক। 'তবে অনেক ভালো প্রার্থী রয়েছেন, তারা টাকার জন্যে নির্বাচন করতে পারেন না; কিন্তু এলাকায় গ্রহণযোগ্য মানুষ। ফলে এটার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটো দিকই রয়েছে।' ব্যয় তদারকিতে নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ নজর দেওয়ার অনুরোধ জানান আব্দুল আলীম।
এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সংসদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় সরকারে বেশ কিছু সংস্কার করছে। এরইমধ্যে নতুন আচরণবিধি জারি করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বিদ্যমান স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় করণিকসহ ছোটখাটো মিলিয়ে ২১টি সংশোধন প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে : নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হুমকি, ভীতি-প্রদর্শন ও বাধা প্রদানের শাস্তির বিধান। ভোটার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হন অথবা শারীরিক প্রতিবন্ধী হন বা অন্য কোনো প্রকারে শারীরিকভাবে সহায়তা সুস্পষ্টীকরণ। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনজনিত বিষয় তদারকিতে নির্ধারিত সংখ্যক উপয্ক্তু কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তদারকি কমিটি গঠন। অনিয়ম হলে তদন্ত সাপেক্ষে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত। পুনরায় ভোট গ্রহণে কমিশনের ক্ষমতা। নির্বাচন বিধিমালা লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে কমিশন কর্তৃক প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতার বিধান।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, 'আচরণবিধির গেজেট হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা বিধির বিষয়েও সরকারের সায় পেলে তা শিগগির আপডেট পাবো আমরা। "স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনের বিদ্যমান আইনেও কিছু সংশোধনী প্রস্তাব রয়েছে। ইতোমধ্যে তা সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।' সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করে চলতি মাসে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।
