বিপৎসীমার কাছাকাছি পদ্মার পানি, পানিবন্দি হাজারও মানুষ
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
?উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত সাত দিন ধরে পানি বাড়তে বাড়তে নদীটি এখন বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। গতকাল শুক্রবার ৯টায় পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি আরও ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নিচু এলাকার পাঁচটি ইউনিয়নের অন্তত ২,৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
?প্লাবিত কৃষিজমি ও বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানি বাড়ার ফলে এসব এলাকার বহু ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্লাবিত হওয়ায় রোপণ করা আমন ও আউশ ধান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিসহ প্রায় ৩৬২ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে চলে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। গৃহপালিত গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘুরছেন দুর্গত এলাকার মানুষ। ?জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রের খবর, পানি ঢুকে পড়ায় দুই উপজেলার মোট ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসা রয়েছে।
নদ-নদীর বর্তমান পানির স্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ?পদ্মা নদী ২১.৭৬ মিটার বিপৎসীমার বিপরীতে বর্তমানে বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ?মহানন্দা নদী-খালঘাট গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা ১৯.৪৩ মিটার (বিপৎসীমা ২০.৫৫ মিটার)। ?দুর্গতদের দুশ্চিন্তা ও সরকারি সহায়তা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) একরামুল হক নাহিদ এবং শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তারা জানান, ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই শুকনো খাবার, চাল, ডাল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ শুরু হবে। ?শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম জানান, এরইমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি ইউনিয়নের ২৫০টি পরিবারের মাঝে পরিবারপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং এই সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
?চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গী জানান, পানিবন্দি ২,৫০০ পরিবারের মধ্যে সদর উপজেলার ১,৮০০ এবং শিবগঞ্জের ৭০০ পরিবার রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ধাপে ধাপে সব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জানান।
