লোডশেডিং কমাতে ফার্নেস অয়েলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর
পিডিবি-বিপিসি
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনে। এতে দৈনিক আড়াই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি)। দেশের চাহিদা মেটাতে সরকার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দিকে ঝুঁকছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বাড়তি চাহিদা জোগান দিতে পূর্বপরিকল্পনার অতিরিক্ত ফার্নেস অয়েল আমদানি করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।
কারিগরি ত্রুটিতে আদানির এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং : পিডিবি ও বিপিসি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি (সেপ্টেম্বর) মাসের শুরুতে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে (আইপিপি) পুরোনো পাওনা পরিশোধের জন্য ছয় হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। এতে নিজস্ব উদ্যোগে ফার্নেস অয়েল আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলছে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। পিডিবির চাহিদা অনুযায়ী বিপিসি ৩৫ দিনে ফার্নেস অয়েলের সাতটি পার্সেল আমদানি করছে।
তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আইপিপিগুলো আমদানি করে নিজেরা। অনেকে পিডিবির মাধ্যমে বিপিসি থেকে তেল নিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখে। বিপিসি আমদানির মাধ্যমে চাহিদামাফিক পিডিবিকে তরল জ্বালানি সরবরাহ করে। তবে বিগত বছরগুলোতে চাহিদা দিয়েও পিডিবি ফার্নেস অয়েল না নেওয়ায় বিপাকে পড়তে হয় বিপিসিকে। হঠাৎ আড়াইগুণ বেশি ফার্নেস অয়েলের চাহিদা পিডিবির : ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পিডিবি এক চিঠিতে ২০২৬ সালের জন্য মাসওয়ারি ফার্নেস অয়েলের চাহিদা দিয়ে চিঠি দেয় বিপিসিকে। ওই চিঠিতে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য আট লাখ ২৬ হাজার ২শ টন ফার্নেস অয়েলের চাহিদা দেওয়া হয়। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য চাহিদা রয়েছে ৮৮ হাজার ২৯৮ টনের। কিন্তু চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পিডিবির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আফরোজা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য দুই লাখ চার হাজার টনের ফার্নেস অয়েলের সংশোধিত চাহিদা দেয়।
