ওজন কমানোর ব্যায়াম

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্বাস্থ্য ডেস্ক

ওজন কমানোর কথা উঠলেই প্রথমে যে বিষয়টি মাথায় আসে, তা হলো ব্যায়াম। অনেকে মনে করেন, প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম করলেই দ্রুত কমে যাবে শরীরের ওজন। কিন্তু বাস্তবতা একটু ভিন্ন। ব্যায়াম শরীরকে সুস্থ ও সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু ব্যায়ামের ওপর নির্ভর করে ওজন কমানো সব সময় সম্ভব নয়।

শরীরের ওজন কমার প্রধান শর্ত হলো দীর্ঘমেয়াদে শরীর যত ক্যালরি খরচ করছে, তার চেয়ে কম ক্যালরি গ্রহণ করা। ব্যায়ামের মাধ্যমে ক্যালরি খরচ হয় ঠিকই, তবে অনেক সময় ব্যায়ামে যতটা শক্তি খরচ হয়, খাবারের মাধ্যমে তার চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করা হয়ে যায়। ফলে কাঙ্ক্ষিত ওজন কমে না। উদাহরণ হিসেবে, কিছুক্ষণ হাঁটা বা হালকা ব্যায়ামের পর ক্ষুধা বেড়ে যেতে পারে। তখন অতিরিক্ত খাবার খেলে ব্যায়ামে খরচ হওয়া ক্যালরির বড় একটি অংশ আবার শরীরে জমা হতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যায়ামের পাশাপাশি খাবারের ধরন ও পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, ভাজাপোড়া, মিষ্টি পানীয় ও বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার কমিয়ে শাকসবজি, ফল, প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবারকে খাদ্যতালিকায় গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। তবে ওজন কমানোর জন্য না খেয়ে থাকা বা হঠাৎ করে খুব কম খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা ঠিক নয়। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

শুধু ওজন কমানো নয়, ব্যায়ামের আরও অনেক উপকার রয়েছে। নিয়মিত শরীরচর্চা পেশি শক্তিশালী করতে, দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা বাড়াতে এবং হৃদ্‌?স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। ওজন কমানোর পর সেটি ধরে রাখার ক্ষেত্রেও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ।

হাঁটা, দৌড়ানো, সাইক্লিং, সাঁতার বা নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী অন্য কোনো ব্যায়াম নিয়মিত করা যেতে পারে। পাশাপাশি সপ্তাহে কয়েক দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করলে পেশির সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু খাবার ও ব্যায়াম নয়, ঘুম এবং মানসিক চাপও বিবেচনায় রাখা দরকার। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কিংবা দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ক্ষুধা ও খাবারের অভ্যাসে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ওজন কমানোর পরিকল্পনায় নিয়মিত ঘুম ও মানসিকভাবে ভালো থাকার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

দ্রুত কয়েক কেজি ওজন কমানোর চেয়ে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি করা বেশি কার্যকর। খাবারের পরিমাণ ও মানের দিকে নজর, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং দৈনন্দিন জীবনে সক্রিয় থাকার অভ্যাস, সবকিছুর সমন্বয়েই ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।