ফেব্রুয়ারির মধ্যেই মিলবে আরও দুই কূপের গ্যাস
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে জ্বালানি সংকটের মধ্যেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ছে। গতকাল শনিবার এই গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এদিন দুপুরে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ ছাড়া ২৯ নম্বর কূপের গ্যাসও শীঘ্রই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পাশাপাশি আগামী ৬ মাস বা ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন আরও দুটি কূপের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
তিতাস গ্যাসক্ষেত্র সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) পরিচালিত তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ বর্তমানে উৎপাদনে রয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘসময় ধরে গ্যাস উত্তোলনের ফলে মজুত এবং চাপ কমায় উৎপাদন কমছে বিদ্যমান কূপগুলোতে। এর ফলে সদর উপজেলার সুহিলপুর এলাকায় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের 'সি' লোকেশনে গ্যাসের নতুন উৎস খুঁজতে ২০১২ সালে জরিপ চালায় বিজিএফসিএল কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে ২০২০ সালে জরিপের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তিতাস ২৮ নম্বর কূপের খনন কাজ শুরু হয়। ২০০ কোটি টাকা ব্যায়ে ৩ হাজার ৬০১ মিটার গভীরতায় কূপটির খনন কাজ শেষ হয় গত ২৭ মে। খনন কাজ করে চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি। গত ১৯ জুন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।
এদিকে, 'সি' লোকেশনে তিতাস ২৯ নম্বর কূপেরও খনন সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে অন্যান্য কারিগরি কাজ চলমান রয়েছে। গত ২০ জুলাই ৩ হাজার ৫২৬ মিটার গভীরতায় কূপটির খনন শুরু হয়। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। আগামী এক মাসের মধ্যেই কূপটি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস যুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করার কথা জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া আগামী দেড় মাসের মধ্যে 'সি' লোকেশনেই তিতাস ৩০ নম্বর কূপেরও খনন কাজ শুরু হবে। ৩ হাজার ৭০০ মিটার গভীরতার কূপটি খননে সময় লাগবে প্রায় সাড়ে ৩ মাস। অন্যদিকে, সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় চলমান তিতাস ৩১ নম্বর কূপের খনন কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় খনন কাজ চলা কূপটি দেশের প্রথম এবং সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান কূপ। এরইমধ্যে ৪ হাজার ৯২০ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়েছে।
তিতাস ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক জসিম উদ্দিন মুন্না জানান, ২৮ নম্বর কূপটি থেকে আপাতত দৈনিক ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ করা হবে গ্রিডে। আর ২৯ নম্বর কূপ থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরুর লক্ষ্যে কাজ চলছে। কূপটি ৩ হাজার ৫২৬ মিটার গভীরতায় খনন করা হয়েছে। এটি থেকেও গ্যাসের ভালো চাপ পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ ছাড়া ৩০ নম্বর কূপটির খননও আগামী দেড় মাসের মধ্যে শুরু হবে বলে জানান তিনি। তিতাস ৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মাহমুদুল নবাব বলেন, কূপটি দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ হওয়ার পাশাপাশি উচ্চচাপ এবং উচ্চতাপ সম্পন্ন। আশা করছি বড় ধরনের কোনো জটিলতা না দেখা দিলে আগামী তিন-চার মাসের মধ্যেই কূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা যাবে।
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, আমরা আশা করছি আগামী ৬ মাসের মধ্যে তিতাস ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপের প্রতিটি থেকে দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে মোট ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারব। এটা আমাদের চাহিদার তুলনায় বেশি না হলেও দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই পরিমাণ গ্যাস এলনজি থেকে কাট করা যাবে। আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশিয় উৎস থেকে উৎপাদন বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমান সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের যে পরিকল্পনা নিয়েছে, এরই অংশ হিসেবে এরইমধ্যে ২৯টি কূপ খনন করা হয়েছে। এরমধ্যে তিতাস ২৮ নম্বর কূপ থেকে ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগ ২০৩০ সাল নাগাদ গ্যাসের চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য দূর করতে সহায়তা করবে। ২৮ নম্বর কূপের গ্যাস মানুষের মাঝে স্বস্তি আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য শূন্যে নামিয়ে আনা হবে।
