জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীর মহাখালীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। কর্মসূচি থেকে জ্বালানি তেলের দাম কমানো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানানো হয়। এ সময় জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে বলেই সরকার একের পর এক গণবিরোধী কাজ করছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার গণভোটের রায় মেনে নেয়নি। সংসদে জুলাই সনদ অধ্যাদেশ, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যাদেশ বাতিল করেছে।

গতকাল সোমবার বিকেলে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্বক বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি জনগণের ওপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ৭ মাসের মধ্যে ৩ বার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। ফলে দ্রব্যমূল্যসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধি হয়ে জনগণ চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন আমরা তাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা করেছিলাম। কিন্তু তখনও সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী টুকুর ব্যর্থতায় সরকার বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। এখনও আবার তাকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে জনগণকে দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণ এখন আর বলেন না, বিদ্যুৎ যায় আর আসে; জনগণ বলে টুকু যায় আর আসে। এই নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা থেকে দেশকে রক্ষা করতে বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণ করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুবা জনগণ যেভাবে লংমার্চে রাজপথে নেমে এসেছে পরে দেখা যাবে গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষ লংমার্চ নিয়ে ঢাকার দিকে ছুটছে। তখন কিন্তু গদি রক্ষা করা যাবে না বলে তিনি সরকারকে সতর্ক করেন।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সরকার মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার কথা বলে তেলের দাম বৃদ্ধি করছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সিন্ডিকেট, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা। সরকার পে-স্কেল দেওয়ার আগেই তেলের দাম বৃদ্ধি করে জনগণের পকেট থেকে হাজার-হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে নিয়েছে। পে-স্কেলে ২৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবীকে সামান্য সুবিধা দেওয়ার নামে সরকার ১৮ কোটি জনগণের পকেট কেটে কোটি-কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার জন্য তেলের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলসহ সর্বক্ষেত্রে ল্‌টুপাট চালাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের বাইরে তখন মধ্যপ্রাচ্যের কথা বলে গভীর রাতে তেলের দাম বৃদ্ধি শুধু জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি নয় বরং এই সিদ্ধান্ত সরকারকেও বিপাকে ফেলবে। গণবিরোধী এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতাদের অংশগ্রহণে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিজয়নগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।