পর্যটন বিকাশে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জরুরি : মীর হেলাল
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেছেন, পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা দেবে, তবে শিল্পের নেতৃত্ব ও বিপণনের দায়িত্ব বেসরকারি খাতকেই নিতে হবে।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, পর্যটন শিল্পকে আমরা বাংলাদেশে খুব আন্ডাররেট করি। অথচ পৃথিবীর অনেক দেশ শুধু পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভর করে অর্থনীতি পরিচালনা করছে। আমাদের প্রাকৃতিক ও পর্যটন সম্পদের দিক থেকে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে সমন্বয় ও যোগাযোগের ঘাটতি।
তিনি বলেন, পর্যটন খাতকে পিসমিল বা বিচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ শিল্পের উন্নয়নে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধন ও সমন্বয় প্রয়োজন। সরকার শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু শিল্পের নেতৃত্ব, বিপণন ও ব্র্যান্ডিংয়ে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো একটি খাতে সরকারের একার পক্ষে সব দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। কোথায় কত বিনিয়োগ প্রয়োজন, কীভাবে সেই বিনিয়োগ বাস্তবায়ন হবে এবং সরকারের কী ধরনের সহযোগিতা দরকার— এসব বিষয় সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বে তুলে ধরতে ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। মীর হেলাল বলেন, দেশের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা এমনভাবে প্রচার করা হয়, যাতে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়। অথচ বাংলাদেশে অসংখ্য ইতিবাচক ঘটনা ও অর্জন রয়েছে, যেগুলো যথাযথভাবে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা নিজেরাই কীভাবে উপস্থাপন করছি, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশ সম্পর্কে বিশ্ববাসী যখন জানতে চায়, তখন ইন্টারনেটে কী তথ্য ও সংবাদ সামনে আসছে, সেটি দেশের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলে।
পর্যটন শিল্পের সঙ্গে গণমাধ্যমের ভূমিকার সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরতে হবে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মানুষের আতিথেয়তা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন অর্জন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরলে বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা সম্ভব। পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিরাপদ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক এলাকা অত্যন্ত সুন্দর। এসব স্থান পর্যটনের আওতায় আনতে পারলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নতুন গন্তব্য তৈরি হবে।
