যাদের জন্য মসুর ডাল
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

মসুর ডাল আমাদের প্রতিদিনের খাবারের খুবই পরিচিত একটি অংশ। এটি প্রোটিন, আঁশ, আয়রন ও নানা ধরনের পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। তাই অনেকেই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় মসুর ডাল রাখেন। তবে যতই উপকারী হোক না কেন, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এ ডাল ক্ষতির কারণও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যায় ভুগলে মসুর ডাল খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
উপকারী মসুর ডাল : মসুর ডাল উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের অন্যতম ভালো উৎস। বিশেষ করে যারা নিরামিষ খাবার বেশি খান, তাদের জন্য এটি খুবই উপকারী। এক কাপ রান্না করা মসুর ডাল থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এ ছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর আঁশ, আয়রন, ফোলেট, ম্যাগনেসিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান।
নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে মসুর ডাল খেলে— দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, হজম ভালো হতে সাহায্য করে, খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে, আয়রনের ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখে।
পুষ্টিবিদদের মতে, যাদের দীর্ঘদিনের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের প্রোটিন ও কিছু খনিজ উপাদান গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হয়। রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক অনেক সময় ডালের পরিমাণও সীমিত রাখতে বলেন। তাই কিডনির রোগ থাকলে নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে মসুর ডাল খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যাদের ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা বা গাউটের প্রবণতা রয়েছে, তাদেরও সতর্ক থাকতে হবে। যদিও মসুর ডালে প্রাণিজ খাবারের তুলনায় পিউরিন কম থাকে, তবুও কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডাল খাওয়া ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে।
যদি ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকে, তাহলে কতটুকু ডাল খাওয়া নিরাপদ, সে বিষয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
মসুর ডাল রান্নার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এবং ভালোভাবে সিদ্ধ করলে হজম সহজ হয়। এতে থাকা কিছু অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টও কমে যায়, ফলে শরীর পুষ্টি আরও ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে। ডালের সঙ্গে শাকসবজি, ভাত বা রুটি খেলে এটি আরও সুষম খাবারে পরিণত হয়।
