শরীরের প্রদাহ কমায় যে খাবার
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

শরীরে কোনো সংক্রমণ বা আঘাতের বিরুদ্ধে রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা সক্রিয় হলে প্রদাহ তৈরি হয়। তবে এ প্রতিক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে। এমনকি হৃদরোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ডিমেনশিয়া ও ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। খাবারের ধরনেও দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহের প্রভাব পড়তে পারে। তাই কিছু খাবার নিয়মিত খাওয়ার পাশাপাশি প্রদাহ বাড়াতে পারে এমন খাবার কমানো গুরুত্বপূর্ণ।
পুষ্টিবিদরা বলেন, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ডায়েট নামে নির্দিষ্ট কোনো সরকারি খাদ্য তালিকা নেই। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ মোকাবিলায় সবচেয়ে ভালো পদ্ধতিগুলোর একটি হতে পারে ভূমধ্যসাগরীয় ধাঁচের খাবার। এ খাদ্যতালিকায় থাকে ফল ও শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, ডালজাতীয় খাবার, বাদাম, বীজ, অলিভ অয়েলের মতো অসম্পৃক্ত চর্বি এবং অল্প পরিমাণ দুগ্ধজাত খাবার ও চর্বি কম থাকা প্রোটিন। উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্যতালিকা এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ড্যাশ ডায়েটেও প্রদাহ কমাতে পারে— এমন খাবারই বেশি থাকে। তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ— শুধু একটি বা দুটি খাবার নয়, বরং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড : চর্বিযুক্ত মাছ যেমন টুনা, স্যামন, সার্ডিন ও ম্যাকারেলে ওমেগা-৩ পাওয়া যায়। এ ছাড়া সয়াবিন, চিয়া বীজ, আখরোট, তিসির তেল এবং পালং শাক, কলার্ড গ্রিনস ও কেলের মতো সবুজ পাতাযুক্ত সবজিও এর ভালো উৎস।
পলিফেনল : উদ্ভিদজাত এই উপকারী উপাদান উজ্জ্বল রঙের খাবারে বেশি থাকে। ব্লুবেরি ও ব্ল্যাকবেরি ছাড়াও চা, কফি, ডার্ক চকলেট, আপেল, বিভিন্ন সাইট্রাস ফল, পেঁয়াজ ও সয়াবিনে পলিফেনল রয়েছে।
ফাইবার : ডাল, পূর্ণ শস্য যেমন ওটস, ব্র্যান ও বার্লি, ফল এবং শাকসবজিতে প্রচুর ফাইবার থাকে।
অসম্পৃক্ত চর্বি : আখরোট, কাঠবাদাম ও অন্যান্য বাদাম, তিল ও কুমড়ার বীজ এবং অ্যাভোকাডো, অলিভ, ক্যানোলা, তিসি ও আখরোটের তেলের মতো উদ্ভিজ্জ তেলে স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি পাওয়া যায়।
যেসব খাবার কমাবেন : মাইক্রোওয়েভে গরম করে খাওয়ার প্রস্তুত খাবার, চিকেন নাগেট, শুকনো স্যুপ, চিনিযুক্ত সিরিয়াল, বিস্কুট ও বিভিন্ন সসের মতো অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারে লবণ, বাড়তি চিনি ও কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকতে পারে। এসব উপাদান প্রদাহ বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।
