মিয়ানমার হয়ে ইউনানের সঙ্গে সড়ক চায় বাংলাদেশ

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং পর্যন্ত সরাসরি সড়কপথ নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

ঢাকায় সফররত চীনের ইউনান প্রদেশের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ আগ্রহ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার হয়ে ইউনানের রাজধানী কুনমিং পর্যন্ত সরাসরি সড়ক নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা গেলে দুই অঞ্চলের পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় 'উল্লেখযোগ্যভাবে' কমবে। ইউনানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে এ বৈঠক হয় বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। চীনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইউনানের এক্সিকিউটিভ ভাইস গভর্নর ঝাও জুনমিন।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার হয়ে কুনমিং পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারের একটি কার্যকর সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলা সম্ভব হলে প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এতে পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে।

ইউনানকে বাংলাদেশের জন্য একটি 'গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় বাজার' হিসেবে বর্ণনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে প্রদেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

প্রদেশটির প্রায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ জনসংখ্যার বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের প্রবেশ সহজ করতে প্রস্তাবিত বিনামূল্যের বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও প্রদর্শনী সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দুই অঞ্চলের বাণিজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয় বৈঠকে। ২০২৫ সালে ইউনান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়েছে।

এক্সিকিউটিভ ভাইস গভর্নর ঝাও জুনমিন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম ইউনানের বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা নীতির আওতায় এসেছে। এর আওতায় বাংলাদেশি পণ্যের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস, প্রদর্শনী কেন্দ্র ও শুল্কসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো দ্রুতই কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, ইউনানের বাণিজ্য বিভাগ ও বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শনের জন্য ইউনানে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। এ সুবিধা কাজে লাগাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, ফল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য ইউনানে রপ্তানির পাশাপাশি ইউনান থেকে ফুল, সার ও পশুখাদ্য আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ স্থাপিত হলে দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্যের বাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বিশেষ করে ইউনানের নারী উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ জানান।

সিলেটের পুরোনো কারাগারকে পার্ক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে তিনি কুনমিংয়ের আধুনিক পার্কগুলোর আদলে সিলেটে একটি আধুনিক পার্ক গড়ে তুলতে ইউনান কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান ও বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও উপস্থিত ছিলেন।