বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের প্রধান সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূতগণ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলামকে অভিনন্দন জানান। অভিনন্দন বার্তার জন্য এসময় রাষ্ট্রপতি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এই তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বর্তমান সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিনিয়োগের সুবর্ণ সুযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ আরও বাড়ানোরও আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ অংশীদারত্ব বর্তমানে বহুমাত্রিক রূপ লাভ করেছে। তিনি এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলোর অব্যাহত সহযোগিতা ও অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এ সুসম্পর্ক আরও গভীর করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এ সময় তিনি অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে, তিনি দক্ষ জনশক্তির জন্য বৈধ অভিবাসনের পথ আরও সম্প্রসারণ এবং আরও ইইউ সদস্য রাষ্ট্রকে ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূতগণ পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব আরও জোরদারে বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা বাণিজ্য, সুশাসন, জলবায়ু কার্যক্রম ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
রাষ্ট্রদূতগণ বাংলাদেশ ও ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সমান সুযোগ সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সাংবিধানিক, বিচার বিভাগীয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগে অব্যাহত সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশ্বাস দেন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ইইউ'র অব্যাহত ও বর্ধিত মানবিক সহায়তা কামনা করেন। মিয়ানমারে তাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ তৈরিতে ইইউ'র আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। এ সময় রাষ্ট্রদূতগণ তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ রূপান্তর, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, সামুদ্রিক বিষয়াবলি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর বিষয়ে মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষ গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক আইন এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন। ইইউ রাষ্ট্রদূতগণ রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে ইইউ'র প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে, জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লৎস, ইটালির রাষ্ট্রদূত আন্তেনিও আলেসান্দ্রো, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ইউরিছ ভান বোসেল, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিসতিয়াগা ওচহোয়া ডি চিনচিত্রু ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
