সুসংবাদ প্রতিদিন
চান্দিনায় বেগুনের ফলন ও দামে খুশি কৃষক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ওসমান গনি, চান্দিনা (কুমিল্লা)

মাটির সোঁদা গন্ধ আর সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে বেগুনি রঙের একেকটি তাজা বেগুন। ক্ষেতের এই দৃশ্যই বলে দিচ্ছে এবার পরিশ্রম আর ঘাম বৃথা যায়নি। কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার তুলাতলি গ্রামে এবার বেগুন চাষে এক অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। অনুকূল আবহাওয়া, সঠিক পরিচর্যা এবং কৃষি বিভাগের সময়োপযোগী পরামর্শে ২৮ শতাংশ জমিতে বেগুনের বাম্পার ফলন ফলিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ফজর আলী। তার এই সাফল্যে শুধু ফজর আলীর পরিবারেই নয়, বরং পুরো এলাকার কৃষকদের মাঝেও আনন্দের জোয়ার বইছে। তুলাতলি গ্রামের মাঠের পর মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। এর মাঝেই ফজর আলীর বেগুন খেতটি যেন আলাদা নজর কাড়ছে সবার। গাছের ডালপালা ভারী হয়ে ঝুলে পড়েছে পুষ্ট ও সুন্দর বেগুনে। কোনো রকম বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা পোকার আক্রমণ ছাড়াই পুরো মৌসুমজুড়ে গাছগুলো সতেজ ছিল। ফজর আলীর এই সফলতার পেছনে রয়েছে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং হাড়ভাঙা পরিশ্রম। তবে এর পাশাপাশি সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা। কৃষক ফজর আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ বছর ধরে নানা ধরনের শাকসবজি চাষ করে আসছেন। তবে এ বছর তুলাতলি গ্রামের নিজের ২৮ শতাংশ জমিতে তিনি বাণিজ্যিকভাবে বেগুন চাষের সিদ্ধান্ত নেন। জমি তৈরি থেকে শুরু করে চারা রোপণ এবং পরবর্তীতে গাছের সার-ওষুধ প্রয়োগ, প্রতিটি ধাপেই তিনি অত্যন্ত যত্নের পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষ করে চান্দিনা পৌর কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ার সার্বক্ষণিক তার পাশে থেকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। কখন কোন কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে কিংবা মাটিতে কী পরিমাণ সার দিতে হবে, সব বিষয়েই নিয়মিত তদারকি করেছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ারের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং এ বছরের অনুকূল আবহাওয়া বেগুন চাষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। পর্যাপ্ত রোদ ও সময়মতো হালকা বৃষ্টিপাত বেগুন গাছের বৃদ্ধিতে দারুণ সাহায্য করেছে। ফলে গাছে পর্যাপ্ত ফুল এসেছে এবং প্রতিটি ফুল থেকেই সুন্দর বেগুন ধরেছে।
পোকার আক্রমণ রোধে জৈবিক বালাইনাশক ও আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করায় ফসলের কোনো ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে স্থানীয় ও আশপাশের পাইকারি বাজারে বেগুনের বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা দরে। বাজারে পণ্যের এই সন্তোষজনক দাম পেয়ে দারুণ খুশি কৃষক ফজর আলী।
তিনি আশাবাদী যে, বর্তমান বাজারদর বজায় থাকলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে তার বেশ ভালো অংকের লাভ হবে। এই আয় দিয়ে তিনি পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি আগামীতে আরও বড় পরিসরে সবজি চাষ করার পরিকল্পনা করছেন।
ফজর আলী আনন্দের সঙ্গে জানান, ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি দামও বেশ সন্তোষজনক পাওয়া যাচ্ছে। যদি আবহাওয়া এমন অনুকূলে থাকে এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকে, তবে আগামীতেও তিনি লাভের মুখ দেখবেন বলে পূর্ণ আশাবাদী। তার এই সাফল্য দেখে তুলাতলি গ্রামের অন্য যুবকরাও এখন আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন।
একটি সফল কৃষির পেছনে যে কৃষক ও মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মীর যৌথ প্রচেষ্টা কতটা ফলপ্রসূ হতে পারে, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত চান্দিনার তুলাতলি গ্রামের ফজর আলীর এই বেগুন খেত। সরকারি সহায়তা এবং কৃষকের নিজস্ব পরিশ্রম মিলে কীভাবে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সচ্ছলতা আনতে পারে, তার অনন্য এক গল্প হয়ে রইল এই বাম্পার ফলন।
চান্দিনার এই অজোপাড়া গাঁয়ের কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে প্রকৃতির দান এবং মানুষের সাধনা। ফজর আলীর এই সফলতা আগামী দিনে কুমিল্লার অন্যান্য কৃষকদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
