গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুর রহমান রিমান্ডে
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় তাঁর মামা ওবায়দুর রহমানের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত এই আদেশ দেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ আদালতকে বলেন, ভুক্তভোগীর সঙ্গে এক নম্বর আসামির (গাজী নজরুল) কিছু ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের ঘটনায় ওবায়দুর জড়িত ছিলেন এবং সেখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর বিয়ে ও কাবিননামার সাক্ষীও এই ওবায়দুর। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামির কোনো ইন্ধন আছে কি না, তা জানতে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকি শুনানিতে বলেন, ঘটনাটি হত্যা, আত্মহত্যা, নাকি আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে, তা উদ্?ঘাটনের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। অন্যদিকে আসামির রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আইনজীবী গোলাম সাবের বলেন, ওবায়দুর শুধু গাড়িচালকই নন, তিনি ভুক্তভোগী মরিয়মের আপন মামা। বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়ের বাবা-মায়ের প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ছিল। ওবায়দুর এর প্রতিবাদ করেছিলেন। এ ছাড়া এর আগে এক নম্বর আসামিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওবায়দুর একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন বলেই ক্ষোভ থেকে তাঁকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। মামলার ১ ও ২ নম্বর আসামি ভিকটিমকে মানসিক নির্যাতন করতেন, ওবায়দুরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ওবায়দুরের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার তিন নম্বর আসামি ওবায়দুর রহমান (৩৮) বাদীর শ্যালক এবং মরিয়মের (১৯) আপন মামা। বিয়ের আগে থেকেই এক নম্বর আসামি গাজী নজরুল ইসলাম (৭৫) বাদীর বাসায় যাতায়াত করতেন। এই সুবাদে পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ওবায়দুর ওই এমপির গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন এবং ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁদের নিয়ে যেতেন। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সময় এজাহারনামীয় অন্য আসামিরা একই বাসায় উপস্থিত ছিলেন। তাই ভুক্তভোগীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনে আসামিদের ভূমিকা উদ্?ঘাটন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত এবং মামলার মূল রহস্য উন্মোচনের জন্য আসামিকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
