অপমান করতেই আখতারুজ্জামানের মাথায় হেলমেট পরানো হয়েছে

বললেন জামায়াত আমির

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

অপমান করতেই সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মাথায় নিরাপত্তা হেলমেট পরানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর মগবাজারের মধুবাগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি। বিমানবন্দরে সীমাহীন দুর্নীতি ও অপকর্মের প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, 'তিন দিন আগে ঢাকা এয়ারপোর্টে বিমানবন্দরের সীমাহীন দুর্নীতি ও অপকর্মের জন্য প্রতিবাদ করেছেন একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা দুইবারের সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। কেন?

'তাকে তার লাগেজ পেতে তিন ঘণ্টারও অধিক সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এরপর ওমরা ফেরত আসার সময় তিনি ও তার সঙ্গীরা একটু জমজমের পানি এনেছিলেন, যা লাপাত্তা হয়। যখন অন্যদের পরিত্যক্ত কিছু জমজমের পানি তাদের ধরিয়ে দেওয়া হয়, তখন জিজ্ঞাসা করেছিল এই জমজমের পানির মালিক কে? যেটা পরিত্যক্ত। আমি চোর নই যে, আরেকজনের কেনা ও ট্যাক্স দিয়ে আনা পানি নিয়ে যাব। এটা আমার দ্বারা হবে না। আমি পবিত্র পানি এনেছি আমার বিশ্বাসের জায়গা থেকে। আমার পানি দাও। প্রথমে বলা হয়েছে কনটেইনার মদিনায় রয়ে গেছে। আপলোড হয়নি। পরে যখন তিনি আরও গরম হয়েছেন খোঁজ নিয়ে বলেছে কনটেইনার এসেছে। ভুলক্রমে আমরা দিতে পারিনি। তার মতো সুপরিচিত নাগরিকের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে।'

আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলাকে 'মিথ্যা' দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, 'তাকে উত্ত্যক্ত করা হয়েছে। বাধ্য করা হয়েছে। তিনি কিছু কথা বলেছেন। তা হয়তো অনেকের ভালো লাগেনি। নাও লাগতে পারে। কিন্তু যে বিষয়ে তিনি প্রতিবাদ করেছেন তা ১০০ ভাগ সত্য। তিনি কথা বলেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীদের জন্য। তিনি কথা বলেছেন আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকাকে যারা বাঁচিয়ে রেখেছেন, সেই সমস্ত খেটে খাওয়া প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য। যাদের ব্যাগ কেটে ভেতরে থাকা মূল্যবান সম্পদ সরিয়ে ফেলা হয় চুরি করা হয়, তাদের জন্য তিনি কথা বলেছেন। সেই অপরাধে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তড়িঘড়ি করে এবং মিথ্যা মামলা হয়েছে। সেই মামলায় বলা হয়েছে তিনি একজনকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করেছেন, এটা ১০০ ভাগ নয়, এক হাজার ভাগ মিথ্যা। তিনি কারও গায়ে হাত তোলেননি।'

আখতারুজ্জামানকে হেলমেট পরানোর ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, 'তার মতো একজন বিশিষ্ট নাগরিক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে হাতকড়া পরানো হয়েছে। তাকে অপমান করার জন্য মাথায় হেলমেট পরানো হয়েছে। তাকে অপমান করার জন্য বুকে জ্যাকেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।'

মেজর আখতারুজ্জামানের উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, 'এখন আর আপনি শুধু জামায়াতে ইসলামী লোক নন বা নেতা নন, এখন আপনি সারা বাংলাদেশের ভুক্তভোগী নির্যাতিত সমস্ত মানুষের নেতা হয়ে উঠেছেন।'

আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, 'মামলা হওয়ার পর আমি তাকে ফোন করেছিলাম। আমরা এন্টিসিপেটরি বেইল নেব কি না। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়কণ্ঠে আমাকে বলেছিলেন আমি অন্যায় করিনি। কাজেই আমি আত্মসমর্পণও করব না। আমি চাই আমাকে গ্রেপ্তার করা হোক। আমি চাই প্রতিবাদের কারণে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এটা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ দেখুক। এজন্য দেখেছেন ডিবি যখন তিনি গিয়েছে তখন প্রথমে তাকে হাতকড়া পরায়নি। তিনি বলেছেন ও ডিবি ভাই আমাকে একটু হাতকড়া পরান, সালাহউদ্দিন সাহেবের ইচ্ছে ১৬ আনা পূরণ হবে।'

জামায়াত আমির বলেন, 'বীর যতদিন জীবিত থাকে, বীরই থাকে। তিনি বীরত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। আমরা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিক।'

গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলির সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না আসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে হুমকি-ধামকির পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে আখতারুজ্জামানের নামে মামলা করা হয়। পরে শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গত শনিবার প্রিজনভ্যানে করে ঢাকার সিএমএম আদালতে নেওয়ার সময় আখতারুজ্জামানের মাথায় নিরাপত্তা হেলমেট পরানো হয়। কখন নিরাপত্তা হেলমেট খুলে ছুড়ে ফেলে নিচে নামেন তিনি।

প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর সময় দরজায় দাঁড়িয়েই হেলমেট পড়ায় আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমি হেলমেট পড়বো না। আমাকে অন্যায়ভাবে-অবৈধভাবে হেলমেট পরানো হচ্ছে। আমি আওয়ামী লীগ না। হালের হেলমেট এখন আওয়ামী লীগের ফ্যাশন হয়েছে। আমাকে হাতকড়া পরান।' পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য তার হাতে হাতকড়া পড়ান।