রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্বাস্থ্য ডেস্ক

কোলেস্টেরল হলো মোমের মতো চটচটে একটি পদার্থ, যা মূলত যকৃত থেকে তৈরি হয় এবং রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়। এটি কোষ গঠন, হরমোন তৈরি ও হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রক্তে প্রধানত দুই ধরনের কোলেস্টেরল থাকে— এলডিএল ও এইচডিএল। এলডিএল (লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) হলো 'খারাপ' কোলেস্টেরল। এটি ধমনির দেয়ালে জমে প্লাক তৈরি করতে পারে। এইচডিএল (হাই-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) হলো 'ভালো' কোলেস্টেরল। এটি শরীর থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল সরাতে সাহায্য করে।

কেন বাড়ে খারাপ কোলেস্টেরল—

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস : ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে, যা এলডিএল বাড়াতে পারে।

অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার : বারবার তেলে ভাজা খাবার ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে।

শারীরিক পরিশ্রমের অভাব : নিয়মিত ব্যায়াম না করলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে পারে এবং এইচডিএলের মাত্রা কমে যেতে পারে।

অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা : অতিরিক্ত ওজন থাকলে এলডিএল বাড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ : ধূমপানসহ অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস রক্তের কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

নিয়ন্ত্রণের উপায় :

স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন : ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে দিন।

আঁশসমৃদ্ধ খাবার খান : ওটস, গম, বাদামি চাল, শাকসবজি, ফল, বাদাম ও বীজ এলডিএল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

ভালো চর্বি গ্রহণ করুন : পলি-আনস্যাচুরেটেড ও মোনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার, যেমন অলিভ অয়েল ও বাদাম, খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার খান : সামুদ্রিক মাছ, আখরোট, কাঠবাদাম ও টোফুর মতো খাবার স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন : প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইক্লিং, সাঁতার বা যোগব্যায়ামের মতো শারীরিক কার্যক্রম কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন : স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।