সুসংবাদ প্রতিদিন

ধান ছেড়ে গ্রীষ্মকালীন শিমে স্বপ্ন

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

সকাল গড়িয়ে তখন বেলা। বাঁশের মাচাজুড়ে ঝুলছে সারি সারি কচি শিম। সবুজ পাতার আড়ালে ব্যস্ত কৃষক তায়জোদ আলী। এক হাতে গাছের ডাল সরিয়ে অন্য হাতে পরম যত্নে শিম তুলছেন তিনি। মুহূর্তেই ভরে উঠছে ঝুড়ি। যত্নে গড়ে তোলা ক্ষেতের উৎপাদিত শিম প্রতিদিনই যাচ্ছে স্থানীয় বাজারে।

গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে ভালো ফলন ও আশানুরূপ বাজারদর পেয়ে কৃষক তায়জোদ আলীর মুখে এখন স্বস্তির হাসি। তার ক্ষেতের সাফল্য দেখে আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ। ধান চাষে উৎপাদন খরচ বাড়লেও অনেক সময় প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার দুশ্চিন্তার মধ্যে গ্রীষ্মকালীন শিম যেন খানসামার কৃষকদের সামনে বাড়তি আয়ের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছিট আলোকডিহি ডাক্তারপাড়া এলাকায় গেলেই চোখে পড়ে এমন সবুজের সমারোহ। হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের গ্রীষ্মকালীন শিমের আবাদকে ঘিরে সেখানে তৈরি হয়েছে নতুন আশাবাদ।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে ধান উৎপাদনে খরচ বাড়লেও সব সময় সে অনুযায়ী বাজারদর পাওয়া যায় না। এতে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কাঙ্ক্ষিত লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেক কৃষকই তুলনামূলক কম সময়ে ফলন পাওয়া এবং ভালো বাজারদর রয়েছে— এমন বিকল্প ফসলের সন্ধান করছেন।

কৃষি বিভাগের পরামর্শে খানসামার কয়েকজন কৃষক এবার গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ শুরু করেন। শুরুতেই ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়ায় তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আত্মবিশ্বাস। এক কৃষকের ক্ষেতের সাফল্য দেখে পাশের কৃষকরাও শিম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানগড় গ্রামের আলোকডিহি এলাকার কৃষক তায়জোদ আলী চলতি বছরের জুলাই মাসে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিমের বীজ রোপণ করেন। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তার ক্ষেতে শিম আসতে শুরু করে। এরপর থেকে নিয়মিত ক্ষেত থেকে শিম সংগ্রহ করছেন তিনি। সংগ্রহ করা শিম পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাস পর্যন্ত ক্ষেত থেকে শিম পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

তায়জোদ আলী বলেন, এ মৌসুমে তার প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গাছে ভালো শিম ধরেছে। পাইকারের কাছে প্রতি কেজি শিম ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন। খরচ বাদ দিয়ে এবার ভালো লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

একই এলাকার কৃষক ময়েজ উদ্দিনও কৃষি বিভাগের পরামর্শে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করেছেন। ক্ষেতের ফলন ও বাজারদর— দুই দিক থেকেই সন্তুষ্ট তিনি।

ময়েজ উদ্দিন বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল বিন আমিনের পরামর্শে তিনি এ জাতের শিম চাষ শুরু করেন। ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। তার ক্ষেতের ফলন দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও শিম চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষক মো. সাদেক মিয়াও অন্য কৃষকের সাফল্য দেখে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আগ্রহী হন। সুমজ আলী ও সনজব আলীর ক্ষেতের ফলন দেখে উৎসাহিত হয়ে তিনি কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেন। পরে ৩০ শতক জমিতে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিমের আবাদ করেন।

সাদেক মিয়া জানান, পাইকাররা তার ক্ষেত থেকে প্রতি কেজি শিম ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাজারে একই শিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ক্ষেতের ফলন ভালো হওয়ায় অক্টোবর পর্যন্ত বিক্রি চলবে বলে আশা করছেন তিনি। এতে ভালো আয় হবে বলেও প্রত্যাশা তার। কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, শীতকালে বিভিন্ন জাতের শিম চাষ হলেও গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে শিম উৎপাদনের জন্য হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতটি সম্ভাবনাময়। এ জাতটি গ্রীষ্ম ও বর্ষার আবহাওয়ার সঙ্গে তুলনামূলকভাবে মানিয়ে নিতে পারে।