কোনো চক্রান্তের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না জাতীয়তাবাদী শক্তি

বললেন রিজভী আহমেদ

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশবিরোধী যেকোনো চক্রান্ত ও আগ্রাসী শক্তির কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনও আত্মসমর্পণ করবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায় জাতীয়তাবাদী শক্তি শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করে যাবে।

বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে শহীদ আবরার ফাহাদের বাবার পাশে বসার স্মৃতিচারণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, 'অনুষ্ঠানে শহীদ আবরার ফাহাদের বাবার পাশে বসেছি। তাই আমি অত্যন্ত গর্ব ও আপ্লুত বোধ করেছি। কথা প্রসঙ্গে তিনি আমাকে জানান, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ৯০-এর রাকসু নির্বাচনে আমাকে ভোট দিয়েছিলেন। রাকসু নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়েছিলেন বলেই আমি সহ-সভাপতি (ভিপি) হতে পেরেছিলাম। কিন্তু আজ যখন একজন বীর শহীদের পিতা নিজে থেকে এসে আমাকে ৯০-এর সেই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কথা বললেন, তখন আমার হৃদয় যে কতটা আবেগ ও উচ্ছ্বাসে ভেসেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।'

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিগত শাসনামলে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, ভারতকে যা দেওয়া হয়েছে, তা তারা মনে রাখবে। কিন্তু এই নতিস্বীকারের বিরুদ্ধে আবরার ফাহাদ যে সাহসী ও তীক্ষ্ণ প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন, সেটিই ছিল তার আসল অপরাধ। তাকে হত্যার মাধ্যমে মূলত পুরো জাতিকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, টলস্টয়ের কথা অনুযায়ী, অন্যের বেদনা অনুভব করাই মানবিক অস্তিত্ব। আবরারের নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো জাতিকে কাঁদিয়েছিল এবং দেশপ্রেমিক জনগণকে জাগিয়ে তুলেছিল। সেই জাগরণেরই চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও ৫ আগস্ট সরকারের পলায়ন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ছাত্রদল রাজপথে বারবার রক্তাক্ত হয়েছে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন ধারাকে ধারণ করে তারা কোনো গোপন বা ছদ্মবেশী রাজনীতির আশ্রয় নেয়নি। রাজপথে আঘাত সহ্য করেই তারা নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।

বক্তব্যের শেষে তিনি শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, বাংলায় প্রবাদ আছে— 'বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচগ্র মেদিনী'। আবরারের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে, দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে পুরো জাতি কীভাবে রুখে দাঁড়ায়।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন ও শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা মো. বরকত উল্লাহ।

এ ছাড়া আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব ইউনিটের নেতাকর্মীরা।

এদিকে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির আগে রিজভী বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারকে ঝামেলায় ফেলা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য 'পতিত দোসররা' নানাভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এসব চেষ্টার অংশ হিসেবে কেউ কেউ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সম্প্রতি পুলিশের ভ্যান থেকে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর পালিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, 'পুলিশের ভ্যান থেকে কীভাবে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী পালিয়ে যেতে পারে?' এ ধরনের ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বলেও উল্লেখ করেন রিজভী।'

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আগে থেকে সচেতন হলে ডেঙ্গু অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ জন্য ব্যক্তি, পরিবার, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে ঘরের আশপাশে ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। ময়লা ও পচা পানি জমতে দেওয়া যাবে না। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

রিজভী বলেন, 'পচা ও জমে থাকা পানি দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে, যাতে সেখানে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল তৈরি হতে না পারে। আগে থেকেই সতর্ক হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।'