সুসংবাদ প্রতিদিন
গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে ফিরছে সচ্ছলতা
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
এ.এইচ.এম.আরিফ, কুষ্টিয়া

গ্রীষ্মকালীন টমোটো চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কুষ্টিয়ার বর্গাচাষি হারুন অর রশীদ। কৃষির এই সফলতা সচ্ছলতা এনেছে হারুনের পরিবারে। ৪ ছেলে মেয়ের সবাই পড়ালেখা করছে। নিজের আবাদি জমি না থাকলেও অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে হারুন এখন এলাকার কৃষকদের কাছে মডেল হয়ে উঠেছে।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামের মাঠের পিচঢালা রাস্তার পাশেই পলিথিনের শেড দিয়ে ঢাকা হারুন অর রশীদের দৃষ্টিনন্দন টমেটো খেত। মানুষ সমান উঁচু সারিবদ্ধ টমেটো গাছের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত থোকা থোকা টমেটো শোভা পাচ্ছে। কথা হয় সফল টমেটো চাষি হারুন অর রশীদের সঙ্গে। তিনি জানান, নিজের কোন আবদি জমি নেই তার। তিনি বরাবর অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে সংসার চালান।
কৃষি বিভাগের পরামর্শে ২০২৩ সালে ৫ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে প্রথম গ্রীষ্মকালিন টমেটো চাষ করে তিনি সফলতার মুখ দেখেন। পরের বছর তিনি প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে এই সবজি আবাদ করেন। এবার ২০২৫ সালে তিনি ১ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে টমেটো চাষ করেছেন।
তিনি জানান, গত এপ্রিল মাসে খেতে টমেটোর চারা রোপণ করেন। মে মাসের মাঝামাঝি টমেটো গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে অল্প কিছু টমেটো উঠছে। যা নিজেদের খাওয়া সহ বিক্রি হচ্ছে। তিনি আশার করছেন জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের পর খেত থেকে টমেটো উত্তোলন করে বাজারজাত করতে শুরু করবেন। আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত খেত থেকে টমেটো পাওয়া যাবে বলে জানান সফল আদর্শ কৃষক হারুন। প্রতি কেজি টমেটো এখন গড়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা টমেটো এখন বাজারে পাওয়া গেলেও তার খেতের টমেটোর চাহিদা বেশি বলে ক্রেতাদের কাছে। হারুন বলেন, ১ বিঘা জমি তিনি ১০ হাজার টাকায় বর্গা নিয়েছেন। আর বাঁশের কাঠামো দিয়ে পলিথিনের শেড তৈরি থেকে জমি তৈরি, চারা রোপণ ও পরিচর্যা মিলিয়ে খরচ হয়েছে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। গাছে যে পরিমাণ ফল এসেছে তাতে বাজার দর ঠিক থাকলে ৪ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকার টমেটো বিক্রির আশা করছেন হারুন।
তিনি আগামী বছর আরও বেশি জমিতে টমেটো চাষ করবেন বলে জানান। স্ত্রী নারগিস বেগমও নানাভাবে সাহায্য করেন হারুনকে। স্বামীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে টমেটো খেতে কাজ করেন নারগিস। বিশেষ করে খেত থেকে টমেটো তোলার কাজটা নারগিস বেশি করেন। নারগিস বেগম জানান, অন্য ফসল আবাদ করলেও টমেটোতে তারা বেশি সাফল্য পেয়েছেন। তাদের ৪ ছেলেমেয়ের সবাই পড়ালেখা করছে। সংসারে এখন আর কোনও অভাব নেই। এদিকে, গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে হারুন অর রশীদের সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন এলাকার অন্য কৃষকরাও। তার দেখাদেখি এলাকার আরও দুজন কৃষক এবার স্বল্প পরিসরে এই টমেটো চাষ করেছেন।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রূপালি খাতুন জানান, গ্রীষ্মকালে মূলত দেশের বাইরে থেকে আমদানি করে টমেটোর চাহিদা মেটানো হয়। কিন্তু ওই টমেটোতে ফরমালিনসহ নানা কেমিকেল ব্যবহার করা হয় যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে, দেশে গ্রীষ্মকালে টমেটো চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষক হারুন অর রশীদের খেতে উচ্চ ফলনশীল বারি হাইব্রিড টমেটো-৪ এর চাষ করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে কৃষি বিভাগ নানা প্রনোদনাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে।
