সড়কে মাফিয়াতন্ত্র ও চাঁদাবাজির অবসান ঘটাতে হবে

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ফ্যাসিবাদের আমলে সড়ক পরিবহন খাতে চলা দীর্ঘদিনের নৈরাজ্য ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সড়ক খাতের মাফিয়াভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ দূর করে আইনি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নতুন কমিটির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

?রুহুল কবির রিজভী বলেন, সড়ক পরিবহন খাতকে ঘিরে যে কথিত মাফিয়াভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ গড়ে উঠেছে, তা দূর করতে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, শ্রমিক ফেডারেশনের নতুন নেতৃত্ব পরিবহন খাতের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে পরিবর্তন আনতে সোচ্চার থাকবে। পাশাপাশি সাধারণ শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং যাত্রীদের সেবার মান উন্নয়নে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

?পরিবহন খাতের আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, নতুন নতুন আইডিয়ার মাধ্যমে এই খাতকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে। দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করে সড়ক পরিবহণকে পুরোপুরি আইনসঙ্গত করা হবে এবং যাত্রীসেবায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে।

বিগত সময়ের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে রাজনীতিবিদরা দায়িত্বে এলে গত ১৭ বছরের ধারাবাহিক নৈরাজ্যের স্থায়ী অবসান ঘটবে।

এর আগে জাতীয় সড়ক পরিবহণ শ্রমিক সংগঠনের নতুন সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, কার্যকরী সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রাজুর নেতৃত্বে সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার ও মিছিলসহ সমাধিতে উপস্থিত হন। পরে রিজভী নতুন কমিটির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ফ্যাসিবাদী আমলে বইয়ে ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি রাখাকে প্রাধান্য দেওয়া হতো: একটি জাতির মেরুদণ্ড দুর্বল হয়ে পরলে পুরো শরীর যেমন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়, তেমনি শিক্ষা খাত ধ্বংস হলে পুরো জাতিই পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, 'ফ্যাসিবাদী আমলে খাতায় না লিখলেও বাধ্যতামূলক পাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।' আরও বলেন, 'অতিরিক্ত রাজনীতিকরণের কারণে শিক্ষার মান অনেক নিচে নেমে গেছে। বইয়ের পাতায় ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি রাখাকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও নৈতিক শিক্ষার স্থান ছিল না।'

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, 'ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও নৈতিক ভিত্তিকে চরমভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করা হয়েছিল। তখন গুণগত শিক্ষা দেওয়ার চেয়ে শুধু পাসের হার (৯০-৯৫ শতাংশ) দেখানোর রাজনীতি করা হয়েছে। এমনকি খাতায় না লিখলেও পাস করিয়ে দিতে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের ওপর ওপর মহল থেকে ধমক দিয়ে বাধ্য করা হতো।'

শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার দায়িত্বও শিক্ষক সমাজকেই নিতে হবে।'

যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি উদাহরণ দেন যে, দাবি আদায়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাটাও অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, 'বিএনপি সবসময় প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের অসাধারণ সমন্বয় করে এসেছে। শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার বিষয়ে দল সচেতন। আমাদের দলের যে ভিশন ও পরিকল্পনা রয়েছে, তাতে শিক্ষক সমাজ কখনও তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হবে না।'

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে সারা দেশ থেকে আগত শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন— প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুকিম উদ্দীন মাহমুদ প্রমুখ।