প্রশাসনের ভেতর সরকারের জনবান্ধব উদ্যোগ বাধাগ্রস্তের চেষ্টা চলছে : রিজভী

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের জনবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, প্রশাসনের ভেতরেও তারা নানা উপায়ে সরকারের জনবান্ধব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। জনগণের সুখ-সুবিধাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আপস করা যাবে না।

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শহীদ জেহাদ পরিষদ আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ কলকারখানা চালু করে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মসূচি দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে। কিন্তু এই উদ্যোগগুলো বাধাগ্রস্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন, উৎপাদন ও অগ্রগতির ধারা নিশ্চিত করতে হলে দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের কল্যাণে নেওয়া কর্মসূচিগুলো যেন কোনো মহলের অপতৎপরতায় বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশে বারবার গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারীরা গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। নব্বইয়ের আন্দোলনে পরাজিত শক্তি এবং ২০২৪ সালের পরাজিত শক্তি সব সময় একসঙ্গে ছিল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তারা অনৈতিক কর্মকাণ্ড, সীমাহীন লুটপাট ও দেশের মানুষের অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। ব্যাংকে জনগণের জমা রাখা অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, একের পর এক আত্মসাৎ করা হয়েছে জনগণের সম্পদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে জুয়ার আসরে ঘুরপাক খেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, ব্যাংক লুট, গুপ্তহত্যা, ক্রসফায়ার ও গুমের সঙ্গে জড়িতদের সহযোগীরা এখনো সমাজের বিভিন্ন স্তরে অবস্থান করছে। প্রশাসনের ভেতরেও তারা নানা উপায়ে সরকারের জনবান্ধব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। অন্যায়, অসত্য ও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিলে জনগণ তা সমর্থন করবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সেদিন সেখানে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয়েছে, অন্যটি হয়নি। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে, তারা কোথা থেকে সাহস পাচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। রিজভী বলেন, দুষ্কৃতকারীরা বসে নেই। গণতন্ত্রকামী মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে এবং এসব অপতৎপরতার বিষয়ে নজর রাখতে হবে। এ ধরনের শক্তির উত্থান হলে দেশের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব, জাতীয় পতাকা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।