দাম্মাম ও মদিনা বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা হচ্ছে : মন্ত্রী

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

হুতিদের হামলার জেরে সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ থাকায় দেশটির দাম্মাম ও মদিনা বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আগামী নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে উদ্বোধন করা হতে পারে বলেও এসময় জানান বিমানমন্ত্রী। এদিকে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের একের পর এক হামলার জেরে গত তিন দিনে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন এসব ফ্লাইটের মোট ৩ হাজার ১২ জন যাত্রী।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি, সৌদিয়ার তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারের তিনটি। গতকাল সোমবার বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ এ তথ্য জানান। এর আগে গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলা চালায়। এতে ১২ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি। এছাড়া হামলায় বাংলাদেশিসহ আহত হন আরও অন্তত ৩০৯ জন।

সর্বশেষ গত রোববার রাতে ফের ওই বিমানবন্দরে হামলা চালায় হুতি। এ ঘটনায় একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন এবং আহত হন ১১ জন। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে অন্তত পাঁচবার হামলা হয়েছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার এক পাইলটসহ তিন সৌদির নাগরিক নিহত হন।

হুথিরা ওই দিন বিমানবন্দরের অবকাঠামোর পাশাপাশি সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমানকেও টার্গেট করে হামলা চালায়। এতে ওই পাইলটের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রায় দুই মাস ধরে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। হুতিরা এক্ষেত্রে রিয়াদ বিমানবন্দরকে সবচেয়ে বড় টার্গেটে পরিণত করেছে। তারা এর আগে সতর্কতা দিয়েছিল, যদি কোনো বিমানসংস্থা সৌদির আকাশ দিয়ে বিমান চালায় তাহলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। সেই হুমকির পরই গত শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়। ওই হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা গতকাল সোমবার পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। রোববার ও সোমবার মিলিয়ে বাতিল হয়েছে ৬ শতাধিক ফ্লাইট।