সৌদি ও হুতিদের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরানের

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত রোববার সন্ধ্যায় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আলোচনায় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং সংঘাতের বিস্তার নিয়ে আলোচনা করেন।

সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে সম্ভাব্য মধ্যস্থতা নিয়ে সৌদি আরবের অবস্থান বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

পৃথকভাবে টেলিগ্রামে করা এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, রাজনৈতিক সমাধানকে উপেক্ষা করে সামরিক পন্থার ওপর জোর দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। এই অঞ্চলের সংকটগুলোর কোনো সামরিক সমাধান নেই।

তিনি বলেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে এবং একটি রাজনৈতিক সমাধানে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তা প্রদানে ইরান প্রস্তুত। এদিকে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও জোর দিয়ে বলেন, তেহরান আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসনে আগ্রহী। তিনি বলেন, আমরা দুটি মুসলিম দেশের মধ্যে শত্রুতা চলতে দিতে চাই না, বিশেষ করে যখন এই অঞ্চলটি এরমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সৃষ্ট উত্তেজনার সম্মুখীন। বাঘাই আরও বলেন, আমরা ধারাবাহিকভাবে জোর দিয়ে এসেছি যে, ইয়েমেনের জনগণের চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধমুক্ত থেকে মর্যাদার সাথে জীবনযাপন করার অধিকার রয়েছে।

তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করার জন্য ইরানের প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর ইরানের এ প্রস্তাব এল। বিশেষ করে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় প্রাণহানি ও বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় যখন সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

অন্যদিকে ইরান ও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে পরস্পরবিরোধী পক্ষকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। ইয়েমেনের সংঘাতও দুই দেশের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তেহরানের সঙ্গে হুথিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, আর সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

এই পরিস্থিতেতে হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংলাপ সহজ হবে কি না, তা নির্ভর করবে উভয় পক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং হামলা বন্ধের বিষয়ে সমঝোতার ওপর।

সামরিক প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক বিশ্লেষক আলেকজান্দ্রু হুদিসতেনু আলজাজিরাকে বলেছেন, সৌদি আরবে হামলা বন্ধের আলোচনায় মধ্যস্থতা করার জন্য ইরানের প্রস্তাব এই প্রমাণকে আরও জোরালো করে যে, দেশটির ওপর হুথি হামলা তেহরানের সাথে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়।

হুদিসতেনু বলেন, আমি মনে করি, এক সপ্তাহ আগেও আমরা ভাবছিলাম যে সৌদি আরবে হুথিদের কার্যকলাপের সাথে ইরানের কোনো কঠোর সমন্বয় আছে কি না, বিশেষ করে সামুদ্রিক ক্ষেত্রে জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে; কিন্তু এখন এটা ভাবা কঠিন যে সেই সমন্বয় নেই।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সৌদি আরবের ওপর হামলাগুলো ছিল এই অঞ্চলকে ইরান কীভাবে দেখে তার একটি মূল প্রতিফলন, যেখানে ইরান একটি ক্ষমতার মধ্যস্থতাকারী হতে চায় এবং তার প্রক্সিগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে।