সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও জরিমানা করার ক্ষমতা চায় প্রেস কাউন্সিল

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও সনদ দেওয়ার পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশের কারণে সম্পাদক, প্রকাশক ও সাংবাদিকদের আর্থিক জরিমানা করার ক্ষমতা চায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। একই সঙ্গে সংবাদপত্রের সম্পাদক হতে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অন্তত ১০ বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতার শর্ত যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংবাদপত্রের 'স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের 'পেশাগত সুরক্ষার' জন্য কাউন্সিলের ক্ষমতা বাড়ানোর এই প্রস্তাব মঙ্গলবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে বৈঠকে উপস্থিত একজন সদস্য বলেছেন, প্রস্তাব তোলা হলেও সংসদীয় কমিটিতে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়নি। কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর কার্যক্রম 'আরও গতিশীল ও গণমুখী' করার বিষয়টি ছিল। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের খসড়া প্রস্তাবে ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন এবং ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধীকরণ) আইন সংশোধনের কথা বলা হয়েছে।

এর মধ্যে প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধনের জন্য ১৯টি এবং ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইন সংশোধনের জন্য সাতটি প্রস্তাব রয়েছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব মো. আব্দুস সবুর খান বলেন, ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধনের জন্য কী করণীয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রেস কাউন্সিলের সদস্যরা বৈঠক করে আইনের কোন কোন ধারা সংশোধন করা প্রয়োজন, তা নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রস্তাবগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সচিব বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় নিজেদের এবং অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর প্রস্তাব একত্র করে আলোচনার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠিয়েছে। নিবন্ধন, জরিমানা ও ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা চাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এসব প্রস্তাব কাউন্সিলের সদস্যরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খসড়ায় সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বার কাউন্সিলের মত সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও সনদ দেওয়ার ক্ষমতা প্রেস কাউন্সিলকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সাংবাদিকতার 'মানোন্নয়ন ও পরিচিতি নিশ্চিত করার জন্য' এ ব্যবস্থা প্রয়োজন। ভুয়া সাংবাদিকদের চিহ্নিত করতে প্রকৃত সাংবাদিকদের অনলাইন তথ্যভাণ্ডার তৈরির ক্ষমতা চাওয়া হয়েছে প্রস্তাবে।

সাংবাদিকদের একই সময়ে একাধিক পেশায় নিয়োজিত থাকার বিষয়েও বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, সাংবাদিকতার পাশাপাশি আইন ও শিক্ষকতার মত অন্য পেশায় নিয়োজিত থাকা সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতার লঙ্ঘন এবং পেশাগত অসদাচরণ। একই সময়ে দুই বা ততোধিক পেশায় নিয়োজিত থাকার বিষয়টি আইনে স্পষ্ট করার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে। 'মিথ্যা ও হয়রানিমূলক' সংবাদ প্রকাশ, 'সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা ও জনরুচির পরিপন্থি' সংবাদ পরিবেশন এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সম্পাদক, প্রকাশক ও সাংবাদিকদের আর্থিক জরিমানা করার ক্ষমতা চেয়েছে প্রেস কাউন্সিল। সে জন্য সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা প্রেস কাউন্সিলকে দেওয়ার প্রস্তাব করা রয়েছে। বর্তমান প্রেস কাউন্সিল আইনের ১২ ধারায় অভিযোগ তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা, সম্পাদক বা সাংবাদিককে সতর্ক করা, ভর্ৎসনা কিংবা নিন্দা জানানোর ক্ষমতা রয়েছে। তবে আর্থিক জরিমানার বিধান নেই। নতুন প্রস্তাবে প্রেস কাউন্সিলকে ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।