যানজট কমাতে ৪ হাজার আধুনিক নতুন বাস চালুর প্রস্তাব
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর যানজট কমানো, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ৪ হাজার আধুনিক বাস ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক পরিচালনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাসসেবা বাধ্যতামূলক করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা এক খোলা চিঠিতে তিনি এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। চিঠিতে পরিবহন খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ, বিআরটিসির বাস ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং রেল ও নৌপরিবহনের উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। চিঠিতে সাইদুর রহমান বলেন, রাজধানীর যানজট কমাতে রুট রেশনালাইজেশনের আওতায় আধুনিক বাস দিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক পরিবহনসেবা চালু করা প্রয়োজন। পুরোনো বাস দিয়ে এই ব্যবস্থা চালু করলে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীদের গণপরিবহনে আগ্রহী করা কঠিন হবে। এতে যানজট কমানোর মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হবে না। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজধানীতে ৪ হাজার আধুনিক বাস চালু করতে সর্বোচ্চ ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এতে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমবে এবং গণপরিবহনে যাতায়াত আরও স্বাচ্ছন্দ্যকর হবে।
নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা বাস চালুর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী অনেক নারী এই সেবার আওতায় আসতে পারছেন না। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক আধুনিক বাসসেবা চালু হলে সব বাসকে নারীবান্ধব করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
রাজধানীর যানজট কমাতে মেট্রোরেল, পাতালরেল, সার্কুলার সড়ক ও ওয়াটার বাসের মতো প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় ও বিপুল অর্থের প্রয়োজন। তাই তুলনামূলক কম ব্যয়ে যানজট কমানোর উপায় হিসেবে আধুনিক বাসসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক যানজট কমাতে রাজধানীর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজস্ব বাসসেবা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছেন সাইদুর রহমান। তার মতে, সকালে ও দুপুরে শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার জন্য বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি সড়কে নামে। শিক্ষার্থীদের বাসে যাতায়াত নিশ্চিত করা গেলে সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ কমবে। প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাস কেনার জন্য ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।
বিআরটিসির বাস ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থাটির বিপুলসংখ্যক বাস বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইজারা দেওয়া হয়। এসব বাস সকালে প্রতিষ্ঠানের কর্মী বা শিক্ষার্থীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে দিনের বড় অংশ অব্যবহৃত থাকে। অথচ রাজধানীর অনেক মানুষ জরাজীর্ণ বেসরকারি বাসে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিআরটিসির প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে বাস পরিচালনার লোকসান বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
