দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে এলো ১৮ রেলকোচ

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিনিধি

বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ (বিজি) প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় প্রথম চালানের ১৮টি কোচ দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে কোচগুলো এসে পৌঁছায়। বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে কোচগুলো হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ভারতীয় তিন প্রতিনিধি এসেছেন। তারা হলেন- ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সুজিত ঘোষ, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার সাঈদ আহমেদ এবং টেকনিশিয়ান জ্ঞান বিন্দার সিং।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরি (হুসাইনপুর) থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত ১২ অক্টোবর রাত ১২টা ১৫ মিনিটে কোচবাহী রেকটি দর্শনা সীমান্তের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। ভারতের রাইটস লিমিটেড এসব কোচ সরবরাহ করছে। প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ অনুযায়ী, আগামী ১৮ অক্টোবরের মধ্যে দর্শনা বন্দর থেকে কোচগুলো খালাসের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর সেগুলো সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পাঠানো হবে। সেখানে কোচগুলোর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ, কমিশনিং ও পরীক্ষামূলক চলাচল (ট্রায়াল রান) সম্পন্ন করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ক্রু, লোকোমোটিভ, টুলভ্যানসহ আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, ২০০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজের মধ্যে প্রথম চালানের ১৮টি কোচ শুক্রবার দুপুরে স্টেশনে পৌঁছেছে। পাকশী বিভাগের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম জানান, প্রথম চালানের ১৮টি কোচের মধ্যে ১১টি নন-এসি, দুটি স্লিপার এসি, তিনটি এসি এবং দুটি পাওয়ার কোচ রয়েছে। কোচগুলো পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথে চলাচলকারী ট্রেনের বহরে যুক্ত করা হবে। এর ফলে যাত্রীসেবার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় বাকি কোচগুলোও পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে আনা হবে। প্রথম চালানের কোচগুলোর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সেগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে পাঠানো হবে। নতুন কোচগুলো রেলবহরে যুক্ত হলে যাত্রীদের যাতায়াত আরও আরামদায়ক ও আধুনিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।