মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড়
দেবী বোধনে দুর্গোৎসব শুরু
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। গতকাল শুক্রবার মহা ষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতায় দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলো। প্রতিমা দর্শন, পূজার আনুষ্ঠানিকতা এবং মণ্ডপের সাজ-সজ্জা দেখতে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতেও উৎসব পেয়েছে সর্বজনীন রূপ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জগতের মঙ্গল ও অশুভ শক্তির বিনাশে দেবী দুর্গার আগমন ঘটে মর্ত্যলোকে। ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ উৎসবের পরবর্তী দিনগুলোতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মহা ষষ্ঠীর সকালে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দেবীর পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বেলতলায় বিহিত পূজার পর দেবীকে আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা করা হয়। ভক্তরা নানা উপাচার নিয়ে পূজামণ্ডপে উপস্থিত হন। দেবীর কাছে দেশ ও জাতির মঙ্গল, শান্তি এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করেন তারা। রাজধানীর লক্ষীবাজার, শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপে উৎসবের প্রস্তুতি ও আয়োজন ঘিরে দেখা যায় উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রতিমার সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং মণ্ডপের নান্দনিক আয়োজন দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জায় মণ্ডপগুলো আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে। ষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতার পর মহা সপ্তমী থেকে পূজার মূল পর্ব আরও জমে উঠবে। এদিন নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন, সপ্তমী বিহিত পূজা এবং দেবীর আরাধনা অনুষ্ঠিত হবে। ভক্তরা দেবীর পায়ে অঞ্জলি দেবেন এবং প্রসাদ গ্রহণ করবেন। পরবর্তী দিনগুলোতে মহাষ্টমী, কুমারী পূজা, মহানবমী ও বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে দেবীকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা। এদিকে, দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি মণ্ডপ পরিচালনা কমিটির স্বেচ্ছা সেবকেরা দায়িত্ব পালন করছেন। কোথাও যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। দর্শনার্থীদের নিরাপদে পূজামণ্ডপে আসা-যাওয়া এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও উৎসাহ। ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উৎসবটি হয়ে উঠছে মিলন মেলায়।
