মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুললেও কাটছে না পুরোনো শঙ্কা

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই বছরের বেশি সময় পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। তবে মাত্র ২৫টি নির্বাচিত এজেন্সির হাতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মূল নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানোর সেই পুরোনো ব্যবস্থা আবার ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গতকাল কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর ঘোষণা দেয়। এর ফলে অনুমোদিত এজেন্সিগুলো আবেদনপত্র প্রসেস করতে পারবে এবং বিদেশ যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কর্মীরা স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাতে পারবেন। তবে অভিবাসন ব্যয়, দেশ ছাড়ার তারিখ কিংবা কর্মীদের কী কী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে— সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় কিছু স্পষ্ট করেনি। সরকার আরও জানিয়েছে, মালয়েশিয়া নীতিগতভাবে কোনো খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মী নিতে রাজি হয়েছে। তবে এর যোগ্যতার মানদণ্ড বা নির্বাচন প্রক্রিয়া কেমন হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলেনি। বিশেষজ্ঞ এবং এজেন্সি মালিকদের মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতার অভাব, অতিরিক্ত খরচ এবং অল্প কয়েকটি এজেন্সির একচেটিয়া আধিপত্যের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর সতর্ক করে বলেন, বিনা খরচে চাকরির ক্ষেত্রে যোগ্যতার মাপকাঠি অস্পষ্ট থাকলে তা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মনে মিথ্যা আশার জন্ম দিতে পারে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কিছু প্রসেসিং এজেন্সির ওপর নির্ভরতা অব্যাহত থাকলে অতীতের অনিয়মগুলো পুনরায় ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে নিবন্ধিত এক এজেন্সির মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, কর্মীদের অন্তত ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। 'যদিও চলতি বছর সরকার অভিবাসন ব্যয় প্রায় ৮৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের অন্তত ৫ লাখ টাকাই দিতে হবে।'

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ভেরিটে-এর একটি জরিপ অনুযায়ী, ২০২২-২০২৪ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় চাকরি পেতে কর্মীরা সরকারের নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার বিপরীতে গড়ে ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা খরচ করেছিলেন। অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগের জেরে ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগ স্থগিত করে মালয়েশিয়া। নতুন ব্যবস্থার অধীনে, মালয়েশিয়া ২৫টি বেসরকারি এজেন্সি এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডকে (বোয়েসেল) প্রধান প্রসেসিং এজেন্সি হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে অন্য ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে মূল প্রক্রিয়াগুলোর জন্য তাদের ওপর নির্ভর করতে হবে। এই ২৫টি এজেন্সি ও বোয়েসেল ই-ভিসা প্রসেস করবে এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনাপত্তি সনদ (এনওসি) ইস্যু করবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখেই এই ব্যবস্থা বৃহত্তর অংশগ্রহণ, প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহিতা বাড়াবে। তারা আরও বলেছে, বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকের আওতায় মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব যোগ্যতার মাপকাঠির ভিত্তিতে এজেন্সিগুলো নির্বাচন করেছে। এর আগে বাংলাদেশ বিবেচনার জন্য ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা জমা দিয়েছিল এবং বৃহত্তর অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়েছিল। তবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার কার্যত সীমিত কিছু এজেন্সির নিয়ন্ত্রণে থাকা পুরোনো সেই ব্যবস্থাকেই ফিরিয়ে এনেছে।