হৃদযন্ত্র ভালো রাখার অভ্যাস
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. কাজী নজরুল ইসলামের মতে, ধূমপান আমাদের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, এটা আমাদের কারোরই অজানা নয়। শরীরের প্রতিটি কোষ থেকে শুরু করে হৃৎপিণ্ড খুবই অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হয়। ধূমপান ছেড়ে দিলে শরীর নিজে থেকেই পুনরায় সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া শুরু করে দেয়। তাই ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে এবং যারা ধূমপান করে থাকেন, তাদের দ্রুত এই বদভ্যাস ছাড়তে হবে।
বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) উচ্চতার সঙ্গে শরীরের ওজনের তুলনা করে আমাদের ওজন স্বাস্থ্যসম্মত রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করে। বিএমআই ২৫-এর নিচে রাখতে পারলে তা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
যারা নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করেন, তারা অন্যদের তুলনায় সুস্থ এবং দীর্ঘায়ু লাভ করে থাকেন। যে কাজটি আপনার করতে ভালো লাগে, হতে পারে হাঁটাহাঁটি, সাইকেল চালানো বা ব্যায়াম করার মাধ্যমে আপনি নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করতে পারেন।
হৃদযন্ত্রের সুস্থতায় খাদ্যতালিকায় তাজা ফল ও শাকসবজি, দানাদার শস্য, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ মাছ, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার অবশ্যই রাখতে হবে। আর প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত পানীয়, অতিরিক্ত লবণ, ভাজাপোড়া খাবার এবং লাল মাংসের পরিমাণ কমিয়ে ফেলতে হবে বা সম্ভব হলে এগুলো খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।
চিকিৎসকের কাছে যাওয়া বা হাসপাতালে গিয়ে অনেকগুলো টেস্ট করানো কারও জন্যই সুখকর কোনো বিষয় নয়। কিন্তু যখন হৃদযন্ত্রের সুস্থতা নিশ্চিত করার প্রশ্ন আসে, তখন প্রসঙ্গটা কিছুটা ভিন্ন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত হার্টের বিভিন্ন টেস্ট করালে পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ার আগেই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে চিকিৎসা শুরু করে দেওয়া যায়। অতীতে পরিবারের কারও হৃদরোগের জটিলতা থাকলে, প্রত্যেক সদস্যের নিয়মিত চেক-আপ করানো খুবই জরুরি। আপনার যদি কখনো বুকে ব্যথা, শ্বাস নিতে কষ্ট বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হতে থাকে, তাহলে অপেক্ষা না করে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
