নদী খনন ও ফারাক্কা চুক্তি নবায়নে কাজ করছে সরকার

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের নদীভাঙন রোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সাড়ে ৮ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খননের বৃহৎ প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে জামালপুর, বরগুনা, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ ভাঙনপ্রবণ এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, জিও ব্যাগ ফেলা এবং প্রতিরক্ষামূলক কাজের সুপারিশ করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। আগামী ১১ ডিসেম্বর ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাওয়ায় এটি নবায়নের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।

আগামী ১১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এটি নবায়নের লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, ১৯৭৭ সালে প্রথম স্বাক্ষরিত এ চুক্তিটি দেশের পানিসম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তি নবায়নের পাশাপাশি দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের নদী ও খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে ৮ হাজার ৫০০ কিলোমিটার নদী-খাল পুনঃখননের একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। মন্ত্রণালয়ের অধীন চলমান ৯৩টি প্রকল্পে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ রয়েছে ৭ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লুইসগেট সংস্কার, প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন গেট নির্মাণ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবৈধ দখলে থাকা জমি উদ্ধারের সুপারিশ করা হয়েছে। দেশের সব খালের সীমানা ও অবস্থান নির্ধারণে ৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার জিআইএসভিত্তিক মানচিত্র ও ডেটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উন্নয়ন তালিকা থেকে বাদ পড়া গুরুত্বপূর্ণ নদী-খাল পুনরায় যাচাই করে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি এবং ভরাট নদী পুনঃখননের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন জানান, সংসদ সদস্যদের ডিও লেটারের ভিত্তিতে সাড়ে ৮ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের একটি বৃহৎ প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দেশের সব খালের সঠিক সীমানা ও অবস্থান নির্ধারণে জিআইএসভিত্তিক মানচিত্র ও ডেটাবেজ তৈরির জন্য আনুমানিক ৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার একটি স্টাডি প্রজেক্টও নেওয়া হচ্ছে। এটি সরাসরি খাল খননের মূল প্রকল্প নয়।কার্যবিবরণীতে বলা হয়, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে এ বিষয়ে বৈঠক শেষে চলতি মাসেই পরিকল্পনা কমিশনে ডিপিপি পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্থায়ী কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এলাকাভিত্তিক অগ্রাধিকারের তালিকা সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানান সচিব।