সরকারকে নয়, এবার ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করব

বললেন জামায়াত আমির

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধীদল সরকারের পতন নয়, সফলতা চেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। জামায়াত আমির বলেছেন, এত দিন তারা সরকারকে সহযোগিতা করার কথা বলেছেন। এখন তাঁরা ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবেন। সরকারবিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের সেই সহযোগিতা নেওয়ার যোগ্যতা নেই। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক মুক্ত আলোচনা সভায় শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।

'জুলাই সনদের এক বছর : প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি' শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট দুপুরের আগপর্যন্ত বিএনপি মজলুম ছিল। নির্বাচনের পর শপথের দিন থেকেই তারা জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে। সেই ধারা এখনও অব্যাহত আছে।

বিএনপি 'পোষা লোকদের' দিয়ে ইনিয়ে-বিনিয়ে প্রশ্ন তুলছে, বিরোধীদল এত আগে কেন আন্দোলন শুরু করেছে— এমন অভিযোগ করে জামায়াতের আমির বলেন, বিএনপি জনগণের দেওয়া দুটি ভোটের মূল্যায়ন করলে সংসদের বাইরে গিয়ে বিরোধী দলকে আন্দোলন করতে হতো না। তারাই বিরোধী দলকে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিএনপি প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে হাত দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা মেধার অধিকার আদায়ে রাস্তায় নেমেছিলেন। কিন্তু সরকার একের পর এক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার পর এখন সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) দিকে হাত দিচ্ছে। কোনো কোনো মন্ত্রী পিএসসির সদস্যদের ডেকে পদত্যাগ করতে বলছেন বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, পিএসসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, কোনো মন্ত্রীর পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়। পিএসসির সদস্যদের এ ধরনের কথা বলার অধিকার কোনো মন্ত্রীর নেই। এর অর্থ, তাঁরা চাকরির এই জায়গা দলীয় লোকজন দিয়ে পূর্ণ করতে চান। চিফ হুইপের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর রংপুরে গিয়ে একই কথা বলেছিলেন। এই টাকা রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে যাবে, বিএনপির তহবিল থেকে নয়। তাই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া একধরনের অপরাধ।

সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের ২০৮টি আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্যকে তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, 'এই বস্তাপচা রাজনীতির জন্য চব্বিশে গণঅভ্যুত্থান হয়নি।' পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সরকারি খাসজমিতে মহিষের ঘাস খাওয়ানোর জন্য চাঁদা নেওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, 'শেষ পর্যন্ত মহিষের ওপরও ট্যাক্স বসানো হচ্ছে। মহিষকেও টাকা দিয়ে ঘাস খাওয়াতে হবে। টাকা না দিলে বিষ দিয়ে মহিষ মেরে ফেলা হবে!'

সাত মাসের মধ্যে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে 'জবাই করা হয়েছে' মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, আগের স্বৈরাচারী সরকার যে পথে হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে। বিরোধী দল মুখে আঙুল দিয়ে বসে থাকবে না। বিরোধী দলের ৮৯ জন সংসদ সদস্য সারা দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবেন।