ফ্যাটি লিভার সম্পর্কে ভুল ধারণা

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্বাস্থ্য ডেস্ক

মেদহীন ব্যক্তির ফ্যাটি লিভার হয় না ধারণাটি ভুল। মার্কস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাজমা আক্তার এ বিষয়ে কিছু তথ্য দিয়েছেন।

অ্যালকোহল পান না করলে ফ্যাটি লিভার হয় না : এ ধারণা ভুল। অ্যালকোহলের সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের সম্পর্ক নেই। এ জন্যই এর আরেক নাম ছিল নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ। বরং এর সঙ্গে ওজনাধিক্য, রক্তে শর্করা ও চর্বির আধিক্য এবং মেদ-ভুঁড়ির সম্পর্ক রয়েছে।

লিভার ফাংশন টেস্ট বা এসজিপিটি স্বাভাবিক মানে ফ্যাটি লিভার নেই : এ ধারণাও ভুল। কারণ, ৮০ শতাংশ ফ্যাটি লিভার আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে এসজিপিটি বা লিভার ফাংশন টেস্ট স্বাভাবিক থাকতে পারে। লিভারে অনেকখানি প্রদাহ হলে তবেই এসজিপিটি বাড়তে শুরু করে, তার আগে নয়। তবে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ এসজিপিটি বাড়ার অনেক আগে থেকেই বিদ্যমান থাকতে পারে।

সুপারফুড, সুপার সিড, সাপ্লিমেন্ট, হারবাল টি ইত্যাদি ফ্যাটি লিভার কমায় : এ ধরনের ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত হয়ে অনেকে ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট, গ্রিন টি-সহ নানা ধরনের সুপারফুড গ্রহণ করে থাকেন। এর কোনোটারই উপকারিতা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত নয়।

মেদহীন ব্যক্তির ফ্যাটি লিভার হয় না : এ ধারণাও ভুল। যদিও ওজনাধিক্য ও স্থূলতা ফ্যাটি লিভারের অন্যতম কারণ, তারপরও একটি বড় অংশের ওজন স্বাভাবিক থাকতে পারে। শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, রক্তে চর্বির পরিমাণ ও দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গে চর্বির (ভিসেরাল ফ্যাট) পরিমাণের ওপর এটি নির্ভর করে।

কেবল বয়স্কদেরই ফ্যাটি লিভার হয়ে থাকে : বর্তমানে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও ফ্যাটি লিভার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। শৈশবে ওজন বৃদ্ধি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, কায়িক শ্রমহীনতা ও মন্দ খাদ্যাভ্যাস শিশু-কিশোরদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।