সুসংবাদ প্রতিদিন

কুষ্টিয়ায় মিশ্র ফল বাগান করে পিতা-পুত্রের সাফল্য

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এ.এইচ.এম.আরিফ, কুষ্টিয়া

৭০ বিঘার বাগানে ৩০ বিঘাতে উন্নত জাতের পেয়ারা, মাল্টা, কমলা, ড্রাগন ফল, কলা, আঙ্গুর, বরই, সফেদা, ষ্টেবেরি ও লেবুসহ বিভিন্ন ধরনের ফলের চাষ হচ্ছে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় ৭০ বিঘা জমিতে মিশ্র ফল বাগান করে সাফল্যের মুখ দেখছেন হযরত আলী ও তার ছেলে রাসেল হোসেন। ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ আওড়ের বিলের মাঠের ব্রিজসংলগ্ন কৃষিজমিতে ২০১৪ সালে পিতা-পুত্র মিলে গড়ে তোলেন এই মিশ্র ফলের বাগান ও নার্সারি। পাঁচ বিঘার পেয়ারার বাগান থেকে এখন ৭০ বিঘা জমির বিশাল মিশ্র বাগান হয়েছে।

পাঁচ বিঘার পেয়ারার বাগানকে পরিকল্পিত পরিচর্যা, আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ৭০ বিঘায় সম্প্রসারণ করেছেন তারা। বর্তমানে তার বাগানে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের ফল স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করছে। তাদের দেখে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার লক্ষ্যে অনেক তরুণ এখন আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ফল চাষে ঝুঁকছেন। ইন্টারনেটে কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন ভিডিও দেখে আধুনিক ফল চাষ, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, সেচ ও সার প্রয়োগের বিভিন্ন কৌশল শিখে সেগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করতে শুরু করেন তারা। পরিকল্পিত পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে ধীরে ধীরে বাগানের উৎপাদন বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার ৭০ বিঘার বাগানে ৩০ বিঘাতে উন্নত জাতের পেয়ারা, মাল্টা, কমলা, ড্রাগন ফল, কলা, আঙ্গুর, বরই, সফেদা, ষ্টেবেরি ও লেবুসহ বিভিন্ন ধরনের ফলের চাষ হচ্ছে।

ছেলে মো. রাসেল হোসেন জানান, সমন্বিত বাগানের প্রতিটি গাছ নিয়মিত ছাঁটাই, সুষম সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিচর্যা করা হয়। এর ফলে ফলের উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি গুণগত মানও উন্নত হয়েছে। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া এবং আধুনিক পরিচর্যার কারণে পেয়ারার ফলন আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। আকারে বড়, স্বাদে মিষ্টি ও মানসম্মত হওয়ায় বাজারে এসব পেয়ারার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পিতা হযরত আলী জানান, বর্তমানে পাইকারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে সাধারণ ক্রেতারাও সরাসরি বাগানে এসে গাছ থেকে পছন্দমতো ফল সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে একদিকে ক্রেতারা তাজা ও নিরাপদ ফল পাচ্ছেন, অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন উদ্যোক্তা। প্রতি মণ পেয়ারা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, হযরত ও তার ছেলে রাসেলের এমন সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে তাঁরাও এখন আধুনিক ও লাভজনক এই মিশ্র কৃষিপদ্ধতিতে চাষাবাদ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

ভেড়ামারার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, তরুণ উদ্যোক্তাদের কৃষিতে আগ্রহী করে তুলতে কৃষি বিভাগ নানা সহযোগিতা করছে। পিতা-পুত্রের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিয়েছে যে আধুনিক প্রযুক্তি, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও কঠোর পরিশ্রমের সমন্বয় ঘটাতে পারলে কৃষিও হতে পারে লাভজনক ও সম্মানজনক পেশা। নিজের মাটিতে সফল হওয়ার যে সম্ভাবনা রয়েছে, হযরত ও রাসেলের সাফল্য এরই বাস্তব প্রতিচ্ছবি।