অবৈধ দখলমুক্ত করে মাঠ সংরক্ষণের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

তরুণদের মাদক, হতাশা আর মোবাইল আসক্তি থেকে বিরত রাখতে খেলার মাঠের বিকল্প নেই। সেজন্য অবৈধ দখলমুক্ত করে মাঠ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার বিকালে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক, হতাশা আর মোবাইল আসক্তি থেকে বিরত রাখতে খেলা ও খেলার মাঠের বিকল্প নেই। তাই অবৈধ দখলমুক্ত করে মাঠ সংরক্ষণ ও নতুন মাঠ চিহ্নত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপতি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ভূয়সীপ্রশংসা করে বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সারা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে এক নতুন জোয়ার বইছে। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন যে, এর পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি ও উৎসাহ জুগিয়ে চলেছেন ক্রীড়ামোদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি শুধু একজন ভালো সংগঠকই ছিলেন না, বিশেষ করে ক্রিকেটের উন্নয়নে তার অনন্য অবদান রয়েছে।
একইসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারে ক্রীড়ানুরাগের ইতিহাস স্মরণ করেন। অ্যাথলেটিকসকে ক্রীড়ার জননী উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'একটি সুস্থ জাতি গঠন এবং তরুণ প্রজন্মকে বর্তমান সময়ের ভয়াবহ মাদকাসক্তি, মোবাইল আসক্তি ও হতাশা থেকে রক্ষা করার একটাই পথ মাঠে খেলাধুলা করা।'
?আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, 'আর কত দিন আমরা আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের দিকে তাকিয়ে থাকব? আমাদের নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে এবং নিজেদের দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল করে তুলতে হবে।' ?নারী অ্যাথলেটদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি 'ইন্টার স্কুল স্পোর্টস কম্পিটিশন' দ্রুত চালুর কথা বলেন। পাশাপাশি বিশ্বমানের অ্যাথলেট গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি ব্যাংক, বীমা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রীড়ার দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। এ সময় বিশ্বমানের অ্যাথলেট তৈরিতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে সরকার কার্যক্রম শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে 'নতুন কুঁড়ি'সহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করে একটি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার, জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। ক্রীড়া সংগঠক মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মরণে এ আয়োজনে ৫৭ সংস্থার ৫৬৫ জন অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন। পুরুষদের ২২ ও নারীদের ১৮টিসহ মোট ৪০টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন অ্যাথলেটরা।
