সুসংবাদ প্রতিদিন
কৃষিজমিতে মাচা পদ্ধতিতে লাউ ও করলা চাষ
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
সঞ্জয় ব্যানার্জী, দশমিনা (পটুয়াখালী)

এক সময় পারিবারিক চাহিদা পূরণে বসতবাড়ির আঙিনায় লাউয়ের চারা লাগানো হতো। লাউ গাছের লতাপাতা ছোট মাচায়, গাছের ডালে, অথবা বসতঘরের চালে উঠিয়ে দেওয়া হতো। এখন লাউয়ের চাহিদা, উৎপাদন খরচ কম ও সময় কম লাগার কারণে বাণিজ্যিকভাবে লাউয়ের চাষ শুরু হয়েছে।
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বড় গোপালদী গ্রামে কৃষিজমিতে মাচা পদ্ধতিতে মার্সাল সুপার জাতের লাউ ও টিয়া সুপার এবং পার্লি প্লাস জাতের করলা চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন মো. পাবেল হোসেন। লাউ ও করলা চাষে রাসায়নিক সার ও শ্রমিক খরচ অনেক কম ব্যয় হয়। বাজারে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। মাটি থেকে মাত্র ৫ ফুট উঁচু করে বাঁশের খুঁটি দিয়ে তৈরি করা হয় মাচা। এটি তার বা সুতালি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা হয়। একবার মাচা তৈরি করলে সেখানে তিন থেকে চারবার লাউ ও করলাসহ অন্যান্য সবজিচাষ করা সম্ভব। বিশেষ করে এই উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মাচা পদ্ধতিতে লাউ ও করলা চাষে ঝুঁকছেন বেশি। উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের তুর কৃষি উদ্যোক্তা মো. পাবেল হোসেন ৩৩ শতাংশ জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লাউ ও করলা চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর লাউ ও করলা চাষে সফলতা পেয়েছেন।
সরেজমিন তার লাউ ও করলা খেতে গিয়ে দেখা গেছে মাচায় ঝুলছে লাউ ও করলা। করলা ও লাউ ককসেট ভর্তি করে বাজার জাত করা হচ্ছে। প্রতি ককসেটে ১৪-১৬টি লাউ ও প্রায় ৮-৯ কেজি করলা ভর্তি করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন ৩-৪টি ককসেট ভর্তি করে বাজারজাত করছেন।
তরুন কৃষি উদ্যোক্তা মো. পাবেল হোসেন জানান, ৩৩ শতাংশ জমিতে মাচায় লাউ, করলা ও শসা চাষ করা হয়েছে। আর ফল আশা পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমি লাউ, করলা ও শসা প্রায় ৭০ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। আশা করি আরও ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার বিক্রি করতে পারব। এবিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এসএসিপিরেইনস প্রকল্পের মাধ্যমে ভার্মিকম্পোষ্ট সার ব্যবহার ও হলুদ ফাঁদ ব্যবহারে মার্শাল সুপার জাতের লাউ এবং টিয়া সুপার ও পার্লি প্লাস জাতের করলা চাষ করেন পাবেল। তার লাউ ও করলা এবং শসার ব্যাপক ফলন হয়েছে।
এবিষয়ে দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষি বিদ মো. জাফর আহমেদ বলেন, এ উপজেলার অনেক স্থানেই বাণিজ্যিকভাবে মাচা পদ্ধতিতে লাউ ও করলা এবং শসার চাষ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা এই চাষে ঝুঁকছেন বেশি। কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে লাউয়ের বীজ ও করলার বীজ এবং রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। লাউয়ের নতুন জাত, লাউ গাছের পরিচর্যা ও মাচা তৈরির পদ্ধতির বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
