প্রথম ইউনিটের 'ফিজিক্স টেস্ট' সম্পন্ন

রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অপেক্ষা

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটের 'বি-২' ধাপের 'ফিজিক্স টেস্ট'সহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড- এনপিসিবিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাসান গতকাল শনিবার বলেন, এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন গত বুধবার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ-বায়েরার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক চূড়ান্ত ধাপ 'সি স্টেজ' বা 'পাওয়ার স্টার্টআপ' কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি সি স্টেজে প্রবেশ করবে। এরপর শুরু হবে পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম।

জাহেদুল হাসান জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। পরবর্তী পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে এ সময়ের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছালে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। সে অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে এ ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের আশা করা হচ্ছে।

তবে বাণিজ্যিক উৎপাদনের পথে এগিয়ে যাওয়ার আগে প্রতিটি ধাপের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া প্রয়োজন হবে। বাণিজ্যিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক সৃষ্টি হবে।

প্রসঙ্গত, রূপপুর প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে তা ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ বাড়ানোর কারণে প্রকল্প ব্যয় বাড়ার সুযোগ না থাকলেও ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। জেনারেশন ৩+ প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি নিয়ে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট। দুটি ইউনিট থেকে আসবে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।