সুসংবাদ প্রতিদিন

ভেড়ামারায় সাগর কলার আবাদে কৃষকের ভাগ্যবদল

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এ.এইচ.এম.আরিফ, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বেড়েছে কলার আবাদ। ভেড়ামারার উৎপাদিত নেপালি সাগর জাতের কলার চাহিদা ও খ্যাতি এখন সর্বত্র। স্বল্প খরচ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকায় কলাচাষ লাভজনক হয়ে উঠেছে।

উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের কাজীহাটা ব্লকের অধীন কাজীহাটা গ্রামের আব্দুল আওয়ালের ছেলে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আসিফ আওয়াল উৎস টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে চারা সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা চাষ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বচ্ছলতা ফিরেছে তার। গত বছর প্রথমবার চাষ করেই ভালো ফলন, বড় আকারের কাঁদি এবং কলার আকর্ষণীয় গড়নের কারণে নেপালি সাগর জাতের কলা ব্যবসায়ীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সরেজমিন দেখা যায়, অধিকাংশ কলাগাছে ফল ধরেছে। এতে আসিফ আওয়াল উৎসের মুখে তৃপ্তির হাসি দেখা গেছে। প্রতিনিয়ত আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ তার বাগান দেখতে আসেন। অনেকে তার কাছ থেকে কলাচাষের পরামর্শও নিচ্ছেন। তিনি নিয়মিত গাছে সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করে আসছেন। তার এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য যুবকেরাও নেপালি সাগর জাতের কলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আসিফ আওয়াল উৎস নিজেও তার কলাবাগানের পরিধি বাড়িয়েছেন। মাটি ও আবহাওয়া নেপালি সাগর জাতের কলা চাষের উপযোগী হওয়ায় একবার চারা রোপণ করে বছরে তিনবার কলা বিক্রি করতে পারছেন তিনি। এতে লাভবান হচ্ছেন এই তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। নেপালি সাগর ছাড়াও তিনি সবরি, চাঁপা, চিনিচাঁপা ও জি-নাইনসহ বিভিন্ন জাতের কলার আবাদ করেন।

আসিফ আওয়াল উৎস জানান, একবার চারা রোপণ করে তিনবার কলার ফলন পাওয়া যায়। খরচ কম অথচ লাভ বেশি হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে নেপালি সাগর জাতের কলার আবাদ করছেন। তিনি বলেন, এ বছর আমি ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলার আবাদ করেছি। এ জাতের কলা বড়, সুস্বাদু ও আকর্ষণীয় রঙের হওয়ায় দেশের সব জেলায় এর চাহিদা অনেক বেশি। প্রথমবারেই খরচ বাদ দিয়ে দ্বিগুণ লাভ হয়েছে। ওই জমি থেকে এখনও আরও দুইবার কলা পাওয়া যাবে। স্থানীয় কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, ধান চাষে লাভ কম হলেও কলা চাষে খরচের দ্বিগুণ আয় করা সম্ভব। এখন অনেকেই এই চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এ ছাড়া কলাবাগানে অনেকের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কলাবাগানের পরিচর্যাকারী জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি নিয়মিত আসিফের কলাবাগানের পরিচর্যা করেন। কলার কাঁদি যখন বড় হতে শুরু করে, তখন বাতাসের কারণে বা অতিরিক্ত ওজনের চাপে গাছ যেন হেলে না পড়ে কিংবা ভেঙে না যায়, সে জন্য বাঁশ বা লাঠি দিয়ে শক্ত খুঁটি ও অবলম্বন দেওয়ার বিষয়টি তাকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হয়। স্থানীয় তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা স্বজল ইসলাম জানান, তিনি কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত থাকলেও আগে কখনও কলার আবাদ করেননি। তাই আসিফ আওয়াল উৎসের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে এবং তার ২৫ বিঘা জমির নেপালি সাগর জাতের কলাবাগান দেখতে এসেছেন। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সদরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ভেড়ামারায় কলার চাষ বেড়েছে। কলা চাষে লাভ হওয়ায় কৃষকেরা এ চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। কাজীহাটা ব্লকে আসিফ আওয়াল উৎস ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলার আবাদ করছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয় এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। উপজেলার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তিনি রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় কলা সরবরাহ করেন। ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. মাহমুদা সুলতানা পলি জানান, কলাচাষিদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা ও সমাধানের জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। আসিফ আওয়াল উৎস এবার ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলার আবাদ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তাকে কলা চাষের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কলায় কার্বাইড ব্যবহার ও বিষাক্ত রাসায়নিক স্প্রে না করার বিষয়েও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।