উপবাসের উপকারিতা
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

ফাস্টিং বা উপবাসের উপকারিতা নিয়ে এখন অনেক আলোচনা হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি রক্তচাপ কমাতে, প্রদাহ কমাতে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে বড় সমস্যা হলো, ফাস্টিং মানে একটানা নির্দিষ্ট সময় না-খেয়ে থাকা। কিন্তু যদি খেয়েও ফাস্টিংয়ের কিছু উপকার পাওয়া যায়? বিজ্ঞানীরা বলছেন, 'ফাস্টিং মিমিকিং ডায়েট' এমনই একটি পদ্ধতি।
ফাস্টিং মিমিকিং ডায়েট : এ পদ্ধতিতে পুরোপুরি না খেয়ে থাকতে হয় না। বরং কয়েক দিনের জন্য— ক্যালরি হিসাব করে খাওয়া হয়। মোট ক্যালরি কমানো হয়। প্রোটিন কম খাওয়া হয়। উদ্ভিদভিত্তিক হালকা খাবার খাওয়া যায় (যেমন সবজির স্যুপ, শাক, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার ইত্যাদি)।
যেভাবে অনুসরণ করা হয় : সাধারণত মাসে একটানা ৫ দিন এই ডায়েট অনুসরণ করা হয়। প্রথম দিন : ৭০০-১১০০ ক্যালরি। পরের ৪ দিন : সর্বোচ্চ ৭৫০ ক্যালরি। এ সময় খাবারের প্রায় ১০ শতাংশ প্রোটিন (আমিষ), ৪৫ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট (শর্করা) ও ৪৫ শতাংশ ফ্যাট (চর্বি) থাকে। এভাবেই হিসাব করে বুঝেশুনে পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে এমনভাবে ডায়েট পরিকল্পনা করা হয়, যাতে শর্করা, চর্বি ও আমিষের অনুপাত ঠিক থাকে।
এতে যা উপকার : বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ডায়েট শরীরে 'সেলুলার হাউসকিপিং' বা কোষের ভেতরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রক্রিয়া সক্রিয় করতে পারে। এতে পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত কোষীয় উপাদান ভেঙে পুনর্ব্যবহার হয়।
উপকারিতা : কোষের কার্যক্ষমতা বাড়তে পারে। বার্ধক্যজনিত ক্ষতি কমতে পারে। হৃদরোগের কিছু ঝুঁকি কমতে পারে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে। আলঝেইমার্স ডিজিজের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে (বিষয়টি এখনও গবেষণাধীন, কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রমাণ মিলেছে)।
সবার জন্য নয় : খেয়েও না-খেয়ে থাকার উপকারিতা পাওয়ার বিষয়টি আশাব্যঞ্জক। এর খুঁটিনাটি নানা দিক নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। তবে এ ডায়েট সবার জন্য নয়। বিশেষ করে আপনি যদি অন্তঃসত্ত্বা হন, নিয়মিত কার্ডিও ও অন্যান্য ব্যায়াম করেন এবং আপনার যদি খাওয়াদাওয়া-সংক্রান্ত মানসিক সমস্যার ইতিহাস থাকে, তাহলে দিনে ৭৫০ ক্যালরির ডায়েট আপনার জন্য নয়।
