নভেম্বর থেকে উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্টমার্টিন

দিনে যেতে পারবেন ৩৫০০ পর্যটক

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কক্সবাজার অফিস

কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত দেশের সর্বদক্ষিণের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণের নিয়মে পরিবর্তন এনেছে সরকার। গত বছর দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটক যাওয়ার অনুমতি থাকলেও এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৫০০ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভ্রমণের সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যেক পর্যটককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে ১০০ টাকা দিতে হবে। গতকাল রোববার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরিনা রহমান স্বাক্ষরিত 'পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক গমন বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন' সংক্রান্ত এক চিঠিতে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর, অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা প্রজ্ঞাপনে সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণে ১২টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তখন নভেম্বর মাসে দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসা, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত যাপন এবং ফেব্রুয়ারিতে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ রাখার বিধান ছিল। দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা গড়ে ২ হাজারের মধ্যে রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।

নতুন সিদ্ধান্তে পর্যটকের সংখ্যা ও ভ্রমণের সময়সীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপে পর্যটক যাতায়াতের সুযোগ থাকবে। ফলে আগের নিয়মে পর্যটক চলাচল বন্ধ থাকার কথা যে ফেব্রুয়ারি মাসে, এবার সেই মাসেও পর্যটন চালু রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দৈনিক পর্যটক বাড়ছে ৭৫ শতাংশ : ২০২৫ সালের প্রজ্ঞাপনে সেন্টমার্টিনে দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটক যাওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তে তা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৫০০ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিদিন পর্যটক যাওয়ার অনুমোদিত সংখ্যা বাড়ছে ১ হাজার ৫০০। শতাংশের হিসাবে এই বৃদ্ধি ৭৫ শতাংশ। আগের নির্দেশনায় পর্যটন মৌসুমকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা দিনে দ্বীপে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসবেন। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে। আর ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকবে। নতুন সিদ্ধান্তে ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটক যাতায়াতের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে আগের বিধিনিষেধের তুলনায় পর্যটন মৌসুমের সময় বাড়ছে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও চিঠিতে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া নৌযান চলাচলের অনুমতি না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে এবং নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখার কথাও বলা হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষার আগের নিষেধাজ্ঞা বহাল : সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র রক্ষায় গত বছরের ১২ দফা নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো বহাল রাখার কথা জানিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন না করা। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্রের ক্ষতি করাও নিষিদ্ধ।

এছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ মোটরচালিত যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, পুলিশ সুপার ও ট্যুরিস্ট পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ অক্টোবর সেন্টমার্টিনে পর্যটন ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পর্যটকদের নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং নৌযান চলাচল নিয়ে আলোচনা হয়।