সুসংবাদ প্রতিদিন
সিরাজগঞ্জে শতাধিক নার্সারি ফিরছে সচ্ছলতা
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
এস,এম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে এবার ফলজ ও বনজসহ বিভিন্ন নার্সারীতে ভালো চারা উৎপাদন হচ্ছে। এসব বিভিন্ন জাতের উৎপাদিত চারার চাহিদাও বাড়ছে। বাজারে দাম ভালো থাকায় নার্সারি মালিক কৃষকেরা খুশি। ইতোমধ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় শতাধিক ফলজ বনজ ওষুধী ফুল ও দেশি বিদেশি কলমের চারার নার্সারী রয়েছে। এসব নার্সারিতে বিশেষ করে ঝুঁকে পড়েছে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা। খরচ কম বেশি লাভে অনেক কৃষক বিভিন্ন সংস্থার ঋণ ও জমি লিজ নিয়ে এসব নার্সারী করছে। এ জেলায় বেশি নার্সারি রয়েছে শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এবং নার্সারি মালিক কৃষক সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে অনুমোদন নিয়ে এসব নার্সারি করেছেন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণ কান্দাপাড়া গ্রামের ফিরোজ মোল্লার ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩২) ও তার স্ত্রী পারভীন খাতুনের (২৬) যৌথ উদ্যোগে কান্দাপাড়া-পাইকশা আঞ্চলিক সড়ক এলাকায় ভাই ভাই নার্সারী নামে ৫ টি নার্সারি করেছেন। তারা ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে সাড়ে ৯ বিঘা জমি (১ বছরের জন্য) লিজ নেওয়া হয়। বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এ জমিতে নার্সারি করা হয়েছে। নার্সারি পরিচালক শফিকুর ইসলাম বলেন, এসব নার্সারিতে আমিসহ প্রতিদিন ৫ জন কর্মচারী ৫০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। আমার স্ত্রী নার্সারীর প্রোপাইটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এসব নার্সারীতে আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, মালটা, বাদামি, সুপারি, লেবু, সবেদা, কদবেল, বেল, লিচু, বড়ই, আপেল, নারিকেল ও কলমের চারা উল্লেখযোগ্য এবং এছাড়াও বিভিন্ন জাতের ফলজ, বনজ, ফুল ও ওষুধি চারা রয়েছে। বগুড়া, যশোর, খুলনাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে এসব চারার বীজ সংগ্রহ করে নার্সারি করতে হয়। তিনি আরও বলেন, এ নার্সারীতে প্রতি বছর ব্যয় হয়ে থাকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা এবং খরচ বাদে লাভ হয় প্রায় ২ লাখ টাকা। এ লাভের টাকা দিয়েই সংসার চলে এবং এতে আমিসহ অনেকের কিছুটা সচ্ছলতা ফিরছে। এসব নার্সারিতে লাভের আশায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা ঝুঁকে পড়েছে এবং নার্সারী থেকেই চারা ব্যবসায়ীরা এসব চারা নিয়ে যায় এবং তারা বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে এসব চারা ভালো দামে বিক্রি হয়ে থাকে এবং প্রতিবছর জেলা উপজেলায় বৃক্ষমেলায় এসব চারা তোলা হয় এবং ভালো দামে বিক্রিও হয়ে থাকে। মেলায় নার্সারীতে ভালো অবস্থানের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে একাধিক পুরস্কারও পেয়েছি। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেরিন আহম্মেদ বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে লাইসেন্সধারী নার্সারি মালিকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। এ পরামর্শে তারা বিভিন্ন জাতের ভালো চারা উৎপাদন করছে। বাজারে দাম ভালো থাকায় নার্সারি মালিকরা এখন খুশি। বিশেষ করে এ নার্সারীতে অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সচ্ছলতাও ফিরে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
