মামলাজট কমাতে বিচারক বাড়ানোর চেয়ে যোগ্য নিয়োগ জরুরি
বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

মামলাজট কমাতে শুধু বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং সৎ, দক্ষ, কর্মনিষ্ঠ ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানসম্পন্ন বিচারক নিয়োগ করা বেশি জরুরি বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
গতকাল রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, বিচারকের সংখ্যাধিক্যই একমাত্র মামলার জট কমাতে সাহায্য করে, এটা সত্য নয়। আমাদের বরং দরকার কর্মনিষ্ঠ, সৎ, যোগ্য এবং বিষয়ভিত্তিক এক্সপার্ট নিয়োগ দেওয়া, যারা প্রকৃতপক্ষে জানবেন তাদের কাজটা কী। একই ধরনের এখতিয়ার থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন বেঞ্চে মামলা নিষ্পত্তির গতিতে পার্থক্যের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, বিচারকের সংখ্যা কম থাকা মামলাজটের একটি কারণ হলেও সেটিই একমাত্র কারণ নয়। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একই ধরনের এখতিয়ার থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো বেঞ্চে শত শত মামলা নিষ্পত্তি হয়, আবার অন্য বেঞ্চে একই ধরনের মামলা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে। তাই শুধু বিচারকের সংখ্যা বাড়িয়ে মামলাজটের সমাধান সম্ভব নয়। মামলাজটের আরেকটি কারণ হিসেবে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত মামলা গড়ানোর প্রবণতার কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ, সন্তানের অভিভাবকত্ব এবং সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের মতো বিষয়গুলো পারিবারিকভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে সমাধান হওয়ার কথা থাকলেও এসব মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আসছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আমাদের দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর ঝগড়া, বাচ্চার কাস্টডি-এ সমস্ত মামলা নিয়ে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ব্যস্ত থাকে।
তার মতে, এ ধরনের মামলার কারণে সাধারণ মানুষ, নিরপরাধ ব্যক্তি ও প্রকৃত বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।
সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশে ১০ মাস ধরে চলা বিধিনিষেধের বিষয়টি আদালত প্রশাসনকে জানানোর কথা বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি বলেন, তিনি এবং দুই অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল সম্প্রতি এ বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে অবহিত করেছেন।
আদালতকক্ষে জায়গার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সাংবাদিকদের সংখ্যা নির্ধারণ করে প্রবেশের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে বিকল্প প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুরে সাত বছরের এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রসার উপাধ্যক্ষ মো. মোসলেম উদ্দিনকে চড় মারার ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি বলেন, কোনো কারণে কোনো ব্যক্তি অপরাধ করে থাকলে সেই অপরাধের জন্য তিনি শাস্তি ভোগ করবেন। যদি কোনো কারণে তিনি অন্যায়ের শিকার হন, তিনি নিরপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। কারওই নিজ হাতে আইন তুলে নেওয়া উচিত নয়।
শিক্ষকদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বজায় রাখা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার জন্য পুরো শিক্ষকসমাজকে লক্ষ্যবস্তু না করার আহ্বান জানান রুহুল কুদ্দুস কাজল।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের ভূমিকা পিতা-মাতার মতো। আবার সন্তানের ক্ষতি হলে অভিভাবকদের আবেগও স্বাভাবিক। তবে এসব ঘটনার সমাধান আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
গাজীপুরের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে, সাংবাদিকেরা এ বিষয়টি তুরৈ ধরলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।
