সংবিধান মেনে নির্বাচন হলে সরকার হলেন কীভাবে

বিএনপিকে শফিকুর রহমান

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমি বারবার বলি, সংবিধান মানলে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কোনো নির্বাচন হওয়ার কথা নয়। তাহলে ওই নির্বাচন না হলে আপনারা সরকার হলেন কীভাবে? আর আমরা বিরোধীদল হলাম কীভাবে? সংবিধানের এই নেশা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এই সংবিধান শুধু ফ্যাসিবাদের জন্মই দেয়নি, ফ্যাসিবাদকে স্থায়ী রূপ দিতে চেয়েছিল। গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে 'জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি' উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমার প্রশ্ন, আপনারা এখন সংবিধান খুঁজছেন কেন? সংবিধান মেনে সাড়ে ১৫ বছর সরকারের সদয় অনুমতি নিয়ে কিছু মিটিং ও মিছিল করেছেন। কিন্তু ফ্যাসিবাদকে তাড়াতে পারেননি। আমরাও পারিনি, আপনারাও পারেননি। এটাই বাস্তবতা। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের অনেকেই জেলে ছিলেন। একসঙ্গে অনেকের সঙ্গে ছিলাম। তখন আলোচনা হচ্ছিল, ২০৪১ সালের আগে শেখ হাসিনাকে বিদায় দেওয়া সম্ভব নয়। আমি বলেছিলাম, এতদিন অপেক্ষা করতে হবে না। এরপর তার উত্তরসূরিরা সেই পতাকা বহন করবেন। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। জেলে বসে বিএনপির বন্ধুদের মুখে এসব কথা শুনেছি। আমি বলেছিলাম, আল্লাহর ইচ্ছায় কি পরিবর্তন হতে পারে না? পরিবর্তনের জন্য অনেক চেষ্টাই তো করলাম, কাজে তো লাগল না। তিনি আরও বলেন, নেতৃবৃন্দ ক্ষমতায় গিয়ে অতীতের সবকিছু ভুলে গেলেন। সংবিধান মেনেই তো আন্দোলন হয়েছে, মিছিল হয়েছে, মিটিং হয়েছে। অনুমতি নিয়ে এসব করতে হয়েছে। যদিও সরকার আমাদের কোনো অনুমতি দেয়নি, দিতে চায়নি। সাড়ে ১৫ বছরে মাত্র দুটি মিটিং করার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছিল। তাও কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের মিটিংয়ে আমরা জানিয়ে দিয়েছিলাম, অনুমতি না দিলেও মিটিং করব। তিনি বলেন, যেসব জায়গায় পরিবর্তন দরকার, সেসব জায়গায় আপনারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে রেখেছেন। আবার যেসব জায়গায় নোট অব ডিসেন্ট দেননি, সেগুলোও এখন এড়িয়ে চলছেন। জুলাই জাতীয় সনদের স্বাক্ষর দক্ষিণ প্লাজায় হলো কেন? গণভবনে হলো না কেন? অন্য কোনো জায়গায় হলো না কেন? এর মধ্য দিয়ে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছিল। এই সংসদে বসে জনগণের অধিকার খুন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও যেন একই প্রক্রিয়া চালু না থাকে, সে জন্যই এই জায়গা নির্বাচন করা হয়েছিল। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী আমির বলেন, জনগণের অধিকারের দাবিতে আমরা মাঠে নেমেছি। আমরা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের কোনো দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমাদের প্রতিটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষ 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। দেশের জনগণ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা অতীতের গুনে ধরা, বস্তাপচা রাজনীতি আর দেখতে চান না। তারা পরিবর্তন ও সংস্কার চান। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে একটি সফল গণবিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থান অনুষ্ঠিত হয়। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। সরকার কার্যক্রম শুরু করার পরপরই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোর অংশীজন ছিলেন। সিভিল সোসাইটির সম্মানিত সদস্যরাও ছিলেন। দীর্ঘ সাত মাসের বেশি সময় ধরে দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিন-রাত আলোচনা করে বেশির ভাগ বিষয়ে একমত হয়ে অল্প কিছু বিষয় বাদে একটি সনদ তৈরি হয়। তিনি বলেন, এই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার সবারই ছিল। এর ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর অংশীজনেরা স্বাক্ষর করেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তখন স্বাক্ষর করেনি। তবে পরবর্তী সময়ে এনসিপিও স্বাক্ষর করেছে।