বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্ভব নয়
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করা সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের দলীয়করণ এবং রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হবে। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজবাড়ী পৌরসভার রজনীগন্ধা মিলনায়তনে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাঁচ জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে, এমনটা আমাদের কাছে মনে হচ্ছে না। এই কয়েক দিনে সরকারদলীয় অন্তঃকোন্দলে কয়েকশ' মানুষ আহত ও নিহত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন দলীয়করণ হয়েছে এবং ক্রমাগত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করা সম্ভব নয়। আজও ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলতে যাওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে আমরা সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব দেব। সেই প্রস্তাবনার ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে হবে।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ও ছাত্র-জনতা জীবন ও রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদ উৎখাত করেছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই আদর্শিক। আওয়ামী লীগ পরাজিত হলেও ফ্যাসিবাদের দোসররা বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও লড়াই অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ একদিকে, স্বৈরাচার একদিকে, আরেক দিকে নতুন চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ শক্তি— এরা মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। এখন এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে বাংলাদেশের মানুষকে মুক্তি দিতে হবে।
সাংবাদিকদের নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের আপত্তিকর মন্তব্যের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, পুলিশ এ ধরনের কথা বলতে পারে না। নিজেদের দায় সাংবাদিকদের ওপর চাপানোর পরিবর্তে পুলিশের দায়িত্ব হলো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা। সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। তাদের তথ্যে ভুল থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু পুলিশের প্রধান দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য করা উচিত নয়।
মাদক সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ, প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের একটি অংশ এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে তারা মনে করেন। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া মাদকের সিন্ডিকেট টিকে থাকতে পারে না। আগে আওয়ামী লীগ এই পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে, এখন বিএনপি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই সিন্ডিকেট ভেঙে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে না পারলে মাদক নির্মূল সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
