ই-রিকশা চলাচলে বিধিমালা
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রণয়ন করা হয়েছে 'ই-রিকশা চলাচল বিধিমালা, ২০২৬'। গতকাল রোববার সকালে সচিবালয়ে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমানে রাস্তায় চলাচলকারী ই-রিকশার ক্ষেত্রে বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত ডিজাইন স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাঠামো সংশোধন করে অনুমোদন নিতে হবে। তবে এর জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরসহ ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হবে। নতুন ই-রিকশার নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রেও বুয়েটের প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিবন্ধন বা নবায়ন ব্যতিরেকে রাস্তায় কোনো ই-রিকশা চলতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, একজন ব্যক্তি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে যেকোনো এক বা একাধিক সিটি কর্পোরেশন মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার মালিক হতে পারবেন। ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ জোনভিত্তিক বিভাজন, রুট এবং ই-রিকশার নির্দিষ্ট রঙ চূড়ান্ত করবে। এক সিটি কর্পোরেশনের নিবন্ধিত রিকশা অন্য সিটি কর্পোরেশনে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না। এ ছাড়া প্রতিটি ই-রিকশায় কিউআর কোডযুক্ত ইউনিক নম্বর প্লেট প্রদর্শন করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাত্রী নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ই-রিকশার অনুমোদিত গতিসীমা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় বা জনবহুল এলাকায় গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। চালক ব্যতীত আকারভেদে সর্বোচ্চ দুই বা চারজন যাত্রী পরিবহন করা যাবে। তিনি আরও বলেন, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার রিকশার নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং এক বছর পর ফিটনেস নিয়ে ৪ হাজার টাকা দিয়ে নবায়ন করাতে হবে। চার যাত্রী ধারণক্ষমতার রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং এক বছর পর ফিটনেস নিয়ে ৫ হাজার টাকা দিয়ে নবায়ন করাতে হবে। এ ছাড়া কিউআর কোডসহ ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদর্শনের জন্য সিটি কর্পোরেশন ১ হাজার টাকা ফি নিতে পারবে। প্রতিটি ই-রিকশার ইকোনমিক লাইফটাইম ধরা হয়েছে ১২ বছর, এরপর নিবন্ধন বাতিল করা হবে।
চার্জিং স্টেশন ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি (সৌর বিদ্যুৎ ও নেট মিটারের ব্যবস্থা) ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধ উপায়ে বা গ্রিডের বিদ্যুৎ চুরি করে ব্যাটারি চার্জ করলে প্রচলিত আইনে কঠোর দণ্ড দেওয়া হবে। এ ছাড়া পুরোনো বা অকার্যকর ব্যাটারি যত্রতত্র না ফেলে পুনরায় প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবৈধ ই-রিকশা যেন না চলে, এ জন্য নিরুৎসাহিত করা হবে। আপাতত যেভাবে আছে, সেভাবে চলতে থাকবে। পর্যায়ক্রমে অনিবন্ধিত ই-রিকশা বন্ধ করে দেওয়া হবে। হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হবে না। এ সময় এলজিআরডির সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসন শফিকুল ইসলাম মিল্টন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
