সুসংবাদ প্রতিদিন
বোচাগঞ্জে পেঁপে চাষে সাফল্য
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ছাতইল গ্রামের জুয়েল ইসলাম দুই যুবককে সঙ্গে নিয়ে লিজ নেওয়া ৭০ শতক জমিতে শুরু করেছেন পেঁপে চাষ। তাদের বাগানে এখন ৭০০টির বেশি পেঁপে গাছ। এরইমধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। বাগানে থাকা অবশিষ্ট পেঁপে বিক্রি করে আরও পাঁচ লাখ টাকার বেশি পাওয়ার আশা করছেন তারা। জুয়েল ইসলাম বোচাগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর ছাতইল ইউনিয়নের দক্ষিণ ছাতইল গ্রামের বাসিন্দা। তার সঙ্গে এ উদ্যোগে রয়েছেন একই গ্রামের মুসাদ্দেক ইসলাম (২১) ও মমিনুল ইসলাম (৩৮)। তারা দুজনই পেশায় রংমিস্ত্রি। তবে সারা বছর রঙের কাজ না থাকায় অনেক সময় তাদের কর্মহীন থাকতে হতো। এ অবস্থায় বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে গিয়ে তারা জুয়েল ইসলামের সঙ্গে পেঁপে চাষে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তিনজন মিলে লিজ নেওয়া জমিতে পেঁপে চাষ শুরু করেন।
পেঁপে চাষি জুয়েল ইসলাম জানান, ২০১৯ সালের দিকে দেশে কাজের সুযোগ কম থাকায় তিনি অবৈধ পথে ভারতে যান। সেখানে পাথর ভাঙার কাজ করতেন। কঠোর পরিশ্রমের ওই কাজে জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে নানা কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। প্রায় ৩ বছর পর দেশে ফিরে কৃষিকাজে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে গ্রামের দুজনকে সঙ্গে নিয়ে সীমিত পুঁজি দিয়ে পেঁপে চাষ শুরু করেন। তাদের বাগানে শাহী জাতের পেঁপে চাষ করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রাণীগঞ্জ থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপণ করেন তারা। রোপণের প্রায় আট মাস পর গাছে ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে বাগানের বয়স প্রায় ১০ মাস। বাগান থেকে কাঁচা ও পাকা— দুই ধরনের পেঁপেই বিক্রি করছেন এই তিন যুবক।
পেঁপে চাষি জুয়েলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭০ শতক জমিতে পেঁপে চাষে তাদের উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। এরইমধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। বাগানে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁপে রয়েছে। অবশিষ্ট পেঁপে বিক্রি করে আরও পাঁচ লাখ টাকার বেশি পাওয়ার আশা করছেন তারা। তবে চূড়ান্ত বিক্রির পরিমাণ নির্ভর করবে অবশিষ্ট ফলন ও বাজারদরের ওপর। জুয়েল ইসলাম বলেন, ?'অবৈধ পথে অন্য দেশে না গিয়ে দেশে কাজ করে খাওয়া অনেক ভালো। শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাও উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। একা সম্ভব না হলে দুই-তিনজন মিলে উদ্যোগ নেওয়া যায়। পরিশ্রম করলে ভালো কিছু করা সম্ভব।' মুসাদ্দেক ইসলাম ও মমিনুল ইসলাম বলেন, 'আমরা পেশায় রংমিস্ত্রি। এই পেশায় সারা বছর কাজ থাকে না। তাই জুয়েল ইসলামের প্রস্তাবে রাজি হয়ে পেঁপে চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আশা করছি পেঁপে বিক্রি করে তিনজনই লাখোপতি হয়ে যাব।'
এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, তিন যুবকের পেঁপে চাষ এলাকায় দারুণ সারা ফেলেছে। অনেকে তাদের দেখাদেখি পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তিনি নিজেও এবার পেঁপের বাগান করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।
বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নয়ন কুমার সাহা বলেন, 'পেঁপে একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ফসল। সঠিক জাত নির্বাচন, নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে পেঁপে চাষে ভালো ফলন ও আয় করা সম্ভব। পেঁপে কাঁচা ও পাকা— দুইভাবেই বিক্রি করা যায়। ফলে কৃষকরা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য বিক্রির সুযোগ পান। জুয়েল ইসলামের মতো তরুণরা কৃষিতে উদ্যোগী হলে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদেরও কৃষিতে আগ্রহী করে তুলতে পারেন।'
