ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

এআই ও অবকাঠামো খাতে কোরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

এআই ও অবকাঠামো খাতে কোরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অবকাঠামো, উন্নত প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তার বাইরে গিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও বিস্তৃত করতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্প অংশীদারত্ব ও বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সফরের দ্বিতীয় কর্মদিবসে দেশটির সরকারি কর্মকর্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল এসব বৈঠকে অংশ নেয়।

আলোচনায় বাংলাদেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক রূপান্তরে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি, শিল্প অংশীদারত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তুলে ধরা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের (কেক্সিম) চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোয়াং কিয়নের সঙ্গে বৈঠকে ২০২৩ থেকে ২০২৭ মেয়াদের ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) কাঠামো পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ঢাকা এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ অংশ, মতলব উত্তর-গজারিয়া সেতু এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের বিষয়টি আলোচনায় আসে। কেক্সিম জানায়, বর্তমানে ইডিসিএফের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্প প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশ অবশিষ্ট অর্থ ব্যবহারে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরির প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর মতো নতুন ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আগ্রহ জানায়। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় ভাইস মিনিস্টার চ্যাং হুর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কৌশলগত পর্যায়ে নেওয়ার আহ্বান জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নত উৎপাদনশিল্প, জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সুযোগ তুলে ধরা হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইজিএনডি) উদ্যোগের মহাপরিকল্পনা তৈরিতে দক্ষিণ কোরিয়ার কারিগরি সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। বাংলাদেশ এ উদ্যোগের অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে কোরিয়ার আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। কোরীয় পক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, বিকল্প অর্থায়ন এবং ভবিষ্যৎ ইডিসিএফ সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। বাংলাদেশে অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক খাতে কোরীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত