স্বেচ্ছায় রক্তদানে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের অনন্য উদ্যোগ

১৮ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৪ ইউনিট রক্ত সরবরাহ

শুক্রবারের বিশেষ খবর

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  গাজী মুনছুর আজিজ

স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে মানুষের জীবন বাঁচাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। ১৪ এপ্রিল ২০০০ থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ল্যাব ও বিভিন্ন ক্যাম্পের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রক্ত সংগ্রহ এবং রোগীদের কাছে রক্ত সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সময়ে গড়ে উঠেছে পাঁচ লাখের বেশি রক্তদাতার একটি বড় স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক।

প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৪ এপ্রিল ২০০০ থেকে এখন পর্যন্ত ল্যাবের মাধ্যমে মোট ৭ লাখ ৯২ হাজার ৩৫৯ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ক্যাম্পের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৯০২ ইউনিট রক্ত। এখন পর্যন্ত ল্যাবের মাধ্যমে মোট ১৮ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৪ ইউনিট রক্ত সরবরাহ করা হয়েছে।

এ দীর্ঘ পথচলায় স্বেচ্ছায় রক্তদানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। এখন পর্যন্ত কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত মোট রক্তদাতার সংখ্যা ৫ লাখ ৬১ হাজার ৩১০ জন। স্বেচ্ছায় রক্তদানের এ বড় পরিসর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রোগীদের রক্তের প্রয়োজন মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল ও প্রয়োজনীয় রোগীদের সহায়তার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে। এখন পর্যন্ত বিনা মূল্যে রক্ত পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৭০ জন রোগী, যার মধ্যে রক্তদাতার সংখ্যাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া সর্বনিম্ন প্রসেসিং খরচে রক্ত পেয়েছেন ২ লাখ ৫ হাজার ৬১০ জন রোগী। এ সংখ্যার মধ্যে রক্তদাতার স্বজনরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

থ্যালাসেমিয়া রোগীদের নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়। এ রোগীদের রক্তের চাহিদা পূরণেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে আনুমানিক ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭৬ ইউনিট রক্ত। স্বেচ্ছায় রক্তদান একটি মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ। একজনের দেওয়া রক্ত অন্য একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। দীর্ঘ প্রায় আড়াই দশকের এ পথচলায় রক্তদাতাদের অংশগ্রহণ এবং ল্যাব ও ক্যাম্পভিত্তিক রক্ত সংগ্রহের মাধ্যমে একটি বড় পরিসরের কার্যক্রম পরিচালনা করছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।

১৪ এপ্রিল ২০০০ থেকে এখন পর্যন্ত সংগৃহীত ও সরবরাহ করা রক্তের এ পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠানটির স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমের ব্যাপ্তি তুলে ধরে। পাঁচ লাখের বেশি রক্তদাতার অংশগ্রহণ, লাখ লাখ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ ও সরবরাহ এবং বিনা মূল্যে ও সর্বনিম্ন প্রসেসিং খরচে রোগীদের রক্তপ্রাপ্তির মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য কয়েক লাখ ইউনিট রক্ত সরবরাহের তথ্য এ কার্যক্রমের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।

২০১২ সালের ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের দিন থেকে কোয়ান্টাম স্বেচ্ছা রক্তদানের ক্যাম্প কার্যক্রমে যুক্ত হয় এক নতুন মাত্রা— মোবাইল ব্লাড ক্যাম্প। নিজস্ব কাভারড ভ্যানকে এ উদ্দেশ্যে ২টি বেডসহ রক্ত সংগ্রহের অন্যান্য ক্লিনিকেল ব্যবস্থা সম্পৃক্ত করে সুসজ্জিত করা হয়। একসঙ্গে সেখানে রক্ত দিতে পারেন দুইজন রক্তদাতা। কোয়ান্টামের একদল স্বেচ্ছাসেবীর সহযোগিতায় বর্তমানে তিনটি মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে ঢাকা ও এর আশেপাশে নিয়মিতভাবেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে রক্তদানে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম ও ক্যাম্প। এসব ক্যাম্প থেকে প্রতিদিন গড় সংগ্রহ ১৫ থেকে ২০ ইউনিট রক্ত।

স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনের সময়ে রোগীদের কাছে রক্ত পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ মানবসেবার এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।