শীতের সবজিতে স্বস্তি কমেছে ডিমের দাম
আগেভাগেই বাড়ছে ছোলার দাম
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

শীতের আগমনী বার্তা মিলছে রাজধানীর সবজির বাজারে। বাজারে বাড়তে শুরু করেছে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার সরবরাহ। এতে এসব সবজির দাম কমে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। তবে মৌসুমি সবজির এই স্বস্তি এখনো পুরো বাজারে ছড়ায়নি। টমেটো, কাঁচামরিচ ও গাজরের মতো পণ্যের দাম চড়া। মাছ-মাংসের বাজারেও নেই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন গতকাল শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় কয়েকটি পণ্যের দাম তুলনামূলক কমেছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু ৬০ টাকায় মিলছে। শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। আকারভেদে প্রতি পিস ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। মুলা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকায়।
তবে সবজির বাজারে এখনো দামের ভিন্নতা রয়েছে। জাত ও আকারভেদে বেগুনের কেজি ৪০ থেকে ৭০ টাকা হলেও গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। টমেটো ও কাঁচামরিচের কেজি ১২০ টাকা করে। গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। দেশি শসা ৮০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি, করলা ও কাঁকরোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। প্রতি পিস লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পেঁপে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যাত্রাবাড়ীর সবজি বিক্রেতা সবজি আহমেদ বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ এখন অনেক বেড়েছে। এ কারণে বেশ কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে সামনের দিনগুলোতে দাম আরও কমতে পারে। একই বাজারের আরেক বিক্রেতা সুমন হাওলাদার বলেন, শীতের সবজি আসতে শুরু করায় আগের তুলনায় দাম কমেছে। এখনো সব ধরনের শীতকালীন সবজি পুরোপুরি বাজারে আসেনি। সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমবে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি এখন আকারভেদে প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজি হিসেবে এসব সবজির দাম ৬০ টাকা। সবজির তুলনায় মাছের বাজারে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর নেই। আগের সপ্তাহের কাছাকাছি দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ মাছ। প্রতি কেজি রুই মাছ আকারভেদে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দাম কমেছে ডিমের
এ ছাড়া কাতলা প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে ইলিশের দাম এখনো বেশ চড়া। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। কোনো কোনো বাজারে বড় আকারের ইলিশের দাম উঠেছে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। এদিকে ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রাহকরা। রাব্বি নামের এক গ্রাহক ঢাকা মেইলকে জানান, যেখানে ডিমের দাম প্রায় দেড়শ টাকা ডজন ছিল তা এখন কমে ১৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দোকানিরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ বাড়ায় ডিমের দাম অনেকটা কমে এসেছে।
রমজানের অজুহাতে আগেভাগেই বাড়ছে ছোলার দাম
রমজান আসতে এখনো বেশ কয়েক মাস বাকি। তবে এরই মধ্যে ছোলার বাজারে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা শুরু হয়ে গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ছোলার দাম বেড়েছে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা। ছোলার পাশাপাশি বেড়েছে ছোলার ডালের দামও। আগেভাগে দাম বাড়ায় বিপাকে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দামের খোঁজ নিয়ে ছোলার বাজারে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। ঢাকার বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। গত সপ্তাহেও প্রতি কেজি ছোলার দাম ১০০ টাকার মধ্যে ছিল। একইভাবে ছোলার ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। কৃষি বিপণন অধিদফতরের ৬ নভেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীতে ছোলার গড় খুচরা দাম ১০৪ টাকা ৫০ পয়সা। সর্বনিম্ন দাম ১০২ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০৭ টাকা।মিরপুর ৬০ ফিট এলাকার মুদি দোকানদার মো. আল আমিন বলেন, পাইকারি আড়তদাররাই এখন ছোলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত সপ্তাহে যে ছোলা ৯২ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে কেনা হয়েছে, সেটি এখন পাইকারিতে ১০২ থেকে ১০৫ টাকা পড়ছে। রমজান আসার আগেই পাইকারি বাজারে দাম বাড়ানো শুরু হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও।
বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মাইনুল ইসলাম বলেন, রমজান আসতে এখনো বেশ কয়েক মাস বাকি। এর মধ্যেই ছোলার দাম বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক। প্রতি বছর রমজানকে সামনে রেখে আগেভাগেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হয়। এতে সাধারণ ক্রেতাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
